শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লানববধুকে ধর্ষন শেষে কুপিয়ে হত্যা; স্বামী আটক

নববধুকে ধর্ষন শেষে কুপিয়ে হত্যা; স্বামী আটক

টেহা পাইয়াও আমার ছালমারে খুন করছে ও পাষানরে। বিয়ার পরে একদিনও শান্তি দেই নাই ও আল্লা গো। এভাবেই বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন স্বামীর সহযোগীতায় নির্মমভাবে খুন হওয়া নববধু ছালমার মা ফিরোজা বেগম (৪০)।

ঘটনাটি ঘটেছে তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড়গাজীপুর গ্রামের পাতলা পট্টির মোঃ অছেক মিয়ার বাড়ীতে গত শনিবার গভীর রাতে।

 

পাষন্ড স্বামী মোঃ ইউসুফ মিয়া (২২) তার স্ত্রী ছালমা আক্তার (১৮)কে অত্যান্ত সুকৌশলে তার বন্ধুদের সাথে হাত মিলিয়ে পালাক্রমে ধর্ষন করে নৃসংশভাবে খুন করে বাড়ীর পাশের জলাশয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ ফেলে রাখে।



নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৈশাখে উভয় পরিবারের মতানুসারে ১ লক্ষ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে উপজেলার বড় গাজীপুর গ্রামের পাতলা পট্টির মোঃ অছেক মিয়ার ছেলে মোঃ ইউসুফ মিয়া (২২)এর সাথে একই উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মোঃ মেহরাজ আলীর মেয়ে ছালমা আক্তার (১৮)কে বিয়ে দেয়া হয়।

যৌতুকের ১ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা সাথে সাথে উসুল করতে পারলেও বাকী ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় বিয়ের পর থেকে কোনদিনই স্ত্রী হিসেবে ছালমাকে মেনে নিতে পারেনাই বলে জানান নিহতের মা। প্রতিদিনই তাকে ওই টাকার জন্য চাপ দেয়া হত। অবশেষে নিহতের ছোট ভাই মোঃ বাবুল মিয়া মালদ্বিপ থেকে টাকা পাঠালে বোনের সুখের কথা চিন্তা করে গত শুক্রবার ৫০ হাজার টাকা এবং ঈদ করার জন্য আরো ৫ হাজার টাকা দেয়। আর এই টাকা নিয়েই স্বামীর বাড়ীতে আসে ছালমা এবং নিজের ও স্বামীর জন্য শনিবার দুপুরে ঈদের কেনাকাটা করে আনে। কিন্তু তাতেও পাষন্ড স্বামীর মন ভরাতে পারেনী হতভাগী ছালমা। যেখানে ঈদের পোষাকে আনন্দিত হওয়ার কথা সেখানে রাতের গভীরেই স্বামীর কুচিন্তায় ম্লান হয়ে যায় সব।
গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ জানায়, তার দুই বন্ধুকে আগে থেকেই ভাড়া করে রাখে এবং রাতে ঘর থেকে মুখে ওড়না পেচিয়ে গ্রামের পশ্চিম পাশের মহসিন মিয়ার বালুর মাঠে নিয়ে যায়, সেখানে তারা তাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এসময় ছালমা আক্তার বাচাঁর জন্য পাণপন চেষ্টা ও জীবনের ভিক্ষা চেয়ে পাষন্ডদের হাতে পায়ে ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। পাষন্ডরা ওকে ক্ষমা না করে ধর্ষণ শেষে শ্বাস রোধ ও পরে ধারালো ছুড়ি দিয়ে মাথার বাম পাশে এলোপাতারী আঘাত করে তাকে ওই জলাশয়টিতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে সবাই চলে যায়।

ইউসুফ আরো জানায়, ছালমা বাচাঁর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলো। হাতে পায়ে ধরেছিলো। রাতেই তার স্ত্রী হত্যার ঘটনাটি তার বাবা মাকে জানালে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য পরিবারের লোকজন নাটকিয় ভাবে রাতভর ছালমাকে খুঁজতে থাকে। পরে সকালে গ্রামের মাহমুদ মিয়ার ছেলে মোঃ আবুুল জলাশয়ে পোনা মাছ ধরতে গেলে সেখানে একটি বস্ত্রহীন মহিলার লাশ দেখে চিৎকার করতে থাকে। তার আর্তচিৎকারে এলাকার লোকজন এসে দেখে ছালমার পরিচয় নিশ্চিত করে তিতাস থানা পুলিশকে খবর দেয়। এর আগেই ঘাতক ইউসুফ গিয়ে তার স্ত্রীকে জলাশয়টি থেকে উঠিয়ে বিবস্ত্র দেহটি একটি পাতলা কাপড়ের মধ্যে ডেকে দিয়ে বাড়ীতে এসে ভান করে বসে থাকে।

পুলিশ ও স্থানীয় মিডিয়া কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে, ইউসুফের পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ইউসুফকে সন্দেহ হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং জলাশয় থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।
লাশের পাশে বসেই কাদঁছিলেন, বড়বোন খাদিজা আক্তার (২৬) বাবা মেহরাজ আলী মেয়েকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে শুনেই সজ্ঞা হারিয়ে হাসপাতালে। নিহত ছালমার ফুফু আমেনা খাতুনও বিলাপ করছিলেন অতি আদরের ভাইজি ছালমাকে হারিয়ে। কান্নার রোল যেন এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছিলো। উপস্থিত লোকজনদের মাঝে একদিকে যেমন শোকের কালো ছায়া নেমে আসে অপরদিকে খুনিদের বিরুদ্ধে প্রবল নিন্দার ঝড় বইতে দেখা যায়। সকলের মাঝে একটাই দাবী খুনিদেরকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে যেন আর কোন নারী এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে প্রান হারাতে না হয়।

তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, খুনের আসামীকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সে আমাদের নিকট স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বিকারোক্তি অনুযায়ী অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তিতাস থানায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments