সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
spot_img
Homeউপজেলারাস্তার কারণে মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হয় না!

রাস্তার কারণে মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হয় না!

আমাদের এলাকার মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে দিতে পারি না শুধু এই রাস্তাটার অভাবে। আপনারা এই রাস্তাটা করার ব্যবস্থা করে দিন স্যার। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। আর বর্ষা মৌসুমেতো ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি বর্ষার পানিতে তলিয়ে যায়। আর সেই কারণেই এ এলাকার মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না।

 

এভাবেই এই সাংবাদিকদের কাছে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন ভাঙ্গা উপজেলার আজিম নগর ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামের গৃহবধূ নার্গিস বেগম। আর এই রাস্তটির অভাবেই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে কৃষিপ্রধান এই এলাকার দুইটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।

 

ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের দিঘীর পাড় কাশেম মাতুব্বরের বাড়ি থেকে বাগবাড়ি খালেদ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি (দেওরা-পাতরাইল সংযোগ সড়ক) দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসীর। আজিমনগর ও কালামৃধা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এই রাস্তা দিয়ে।

 

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিএসপি’র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটিতে অর্থ বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা রাস্তার জন্য নিজের জমি ছেড়ে দেয়, কিছু জমি এলাকাবাসী টাকা তুলে কিনে নেয়। রাস্তার কাজও শুরু হয়। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই রাস্তার কাজে বাদ সাধে স্থানীয় কাসেম মাতুব্বর ও তার ছেলেরা। তারা রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা শালিস দরবার করে বিষয়টির কোন সুরাহা করতে পারে নাই। শুধু রাস্তার কাজে বাধা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি কাসেম মাতুব্বর।

 

তিনি গ্রামের নিরিহ মানুষের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। যারা রাস্তার পক্ষে আন্দোলন ও তদবির করছে তাদের বিরুদ্ধেও মামলাবাজ কাসেম মাতুব্বর একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এটি এখন সংস্কার করা জরুরি প্রয়োজন। রাস্তাটির গুরুত্ব অনুভব করে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিএসপি’র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটিতে অর্থ বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

 

কিন্তু এলাকার কুচক্রী মহল কাসেম গং রাস্তার কাজে বাধা দিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে যেতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি বর্ষার পানিতে তলিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, আমাদের এই এলাকা কৃষি প্রধান, বেশি সমস্যা হয় কৃষি পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে।

 

এলাকার প্রবীণ শিক্ষক খালেক মাতুব্বর বলেন,কাছাকাছি একমাত্র পাতরাইল মসজিদ থাকায় এই সড়ক দিয়েই আামদের মসজিদে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার কাজ মাঝ পথে বন্ধ থাকায় একটু বৃষ্টি নামলে মসজিদে যাওয়া যায় না। কলেজছাত্রী সাথি জানান, আমাদের স্কুল কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়, বিশেষ করে মেয়েদের। বর্ষা মৌসুমে মেয়েদের স্কুল কলেজ একরকম বন্ধই হয়ে যায়।

 

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, কালামৃর্ধা ও আজিমপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি, ভাষরা, দেওরা, পাতরাইল, সোনালতা, বাগবাড়িসহ আরো কয়েক গ্রামের মানুষের স্কুল কলেজ, হাট-বাজরেসহ উপজেলা সদরে যাওয়ার এই একটি মাত্র রাস্তা। মাঝপথে রাস্তার কাজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই এলাকার সকল বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরতে হয়েছে।

 

স্থানীয় আজীম নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, সড়কটি আমি পাস করিয়েছি, রাস্তার মাটি কাটার কাজ শেষ পর্যায়ে। হঠাৎ কাসেম মাতুব্বর প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা মাটি কাটার লেবারদের কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। চেয়ারম্যান জানালেন, রাস্তাটি নির্মাণ হলে এলাকাবাসির কয়েক যুগের স্বপ্ন পুরন হবে সেই সঙ্গে এলাকারও ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন রাস্তা বন্ধ করা ওই প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে রয়েছে কাসেম মাতুব্বর। তবে অভিযুক্ত কাসেম মাতুব্বর এই ব্যাপারে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

 

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পূনরায় রাস্তার কাজ শুরু করার জন্য দ্রুতই উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments