শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeউপজেলাকক্সবাজার সৈকতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে কক্সবাজার প্রস্তুত

কক্সবাজার সৈকতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে কক্সবাজার প্রস্তুত

আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর ও তৎপরবর্তী পর্যটন মওসুমকে ঘিরে নতুন সাজে সাজছে কক্সবাজার। হোটেল মোটেল গুলোর রং পাল্টানো সহ নতুন রূপে সাজানো হয়েছে পুরো শহরকে। পর্যটকদের সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত পর্যটন সংশ্লিষ্টরাও। ঈদে টানা ৯ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ে এবছর সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমন করবেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। পর্যটকদের আগমনে এখন অপোর পালা।

 
এদিকে সারাদেশ থেকে আগত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবছর চমক লাগানো পদপে নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডি.আই.জি নিবাস চন্দ্র মাঝি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরোও ৫২ ট্যুরিস্ট পুলিশকে। যাদের মধ্যে রয়েছে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১ জন সহকারী পুলিশ সুপার। দেশের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে জুমাবার থেকে ট্যুরিষ্ট পুলিশের এ অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

 

মূলত ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার সৈকতে একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ৩০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে তারা ছিলেন এতদিন জেলা পুলিশের সদস্য। আর ২৫ জুলাই জুমাবার থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ট্যুরিষ্ট পুলিশের ৫২ জন সদস্য কক্সবাজার সৈকতে কাজ শুরু করেছেন। সব মিলে এখন থেকে কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে ট্যুরিস্ট পুলিশের আপাতত ৮২ জন সদস্য সদা নিয়োজিত থাকবেন। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ২শ’ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ।

 
জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদের সময় লাখো পর্যটকের যখন ভীড় হয় কক্সবাজার সৈকতে, তখন জেলা পুলিশের সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খায়। ফলে পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নানা রকমের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কাজেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এবছর মৌসুমের আগেই একই সাথে এতগুলো ট্যুরিষ্ট পুলিশ নিয়োজিত করেন কর্তৃপ। শুক্রবার প্রাথমিক ভাবে অতিরিক্ত ৫২জন ট্যুরিস্ট পুলিশ আকস্মিক ভাবে সৈকতে নিয়োজিত হয়ে পড়লেই স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্থি ফিরে আসে।

 
বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের ডি.আই.জি নিবাস চন্দ্র মাঝি জানান, এখন থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা সার্বণিক নিয়োজিত থাকবেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বণ তারা পর্যটন স্পটগুলো ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন।
ট্যুরিষ্ট পুলিশের ডি.আই.জি নিবাস চন্দ্র মাঝি আরোও জানান, জুমাবার কক্সবাজারে অতিরিক্ত যে ৫২জন ট্যুরিস্ট পুলিশ পাঠানো হয়েছে তৎমধ্যে রয়েছেন ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১ জন সহকারী পুলিশ সুপার।

 
কক্সবাজারে নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেগম শামশুন্নাহার বলেন- ‘বাংলাদেশ ট্যুরিষ্ট পুলিশে জনবল মাত্র ৬২১ জন। তাও পুরোপুরি পদায়ন করা হয়নি। একজন ডিআইজি’র নেতৃত্বে ট্যুরিষ্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হলেও দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে এই প্রথম যাত্রা শুরু করা হল ট্যুরিস্ট পুলিশের।
প্রতিবছর ঈদ এলে একটি লম্বা ছুটি মেলে। এ বছর টানা ৯দিন ছুটি।

 

এছুটিকে কেন্দ্র করে ঈদের আগে-পরে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, কটেজ, গেষ্ট হাউজ সহ পর্যটন স্পট গুলো সাজানো হচ্ছে নানা আকর্ষণীয় সাজে। নতুন আসবাবপত্র দিয়ে হোটেল-মোটেল সাজানো ছাড়াও দেওয়ালের পুরনো আস্তরণ তুলে লাগানো হচ্ছে প্লাস্টিক পেইন্ট কিংবা ডিসটেমপার। রেঁস্তোরা গুলোতেও চলছে ধোয়ামুছা ও রং লাগানোর কাজ।

 
প্রশাসনের প থেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার অগ্রীম প্রস্তুতিও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে সোনায় সোহাগা হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে টানা ৯ দিনের ছুটি মিলবে। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ব্যাপক সংখ্যক পর্যটক আসবেন- এমনটিই আশা করছেন হোটেল-মোটেল-মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

 
পর্যটন শৈবালের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, অতীতের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবছর ঈদের ছুটিসহ নানা ছুটিতে ব্যাপক সংখ্যক পর্যটকের ভিড় হয় কক্সবাজারে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ইতিমধ্যে অনেক হোটেল মোটেলে রুম অগ্রিম বুকিং হতেও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সাজ-সজ্জার কাজও শেষ করা হয়েছে।
হোটেল ইকরা বীচের স্বত্তাধিকারী মো. শাহজাহান জানান, পর্যটকদের বরণে হোটেলের প থেকে সব প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত হোটেলের প্রায় সব ক বুকিং হয়ে গেছে। আর অল্প কিছু বুকিং দেওয়ার মত ক রয়েছে। এখন আপাতত ঈদের পরে যেসব পর্যটক আসবেন তাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য নানা আয়োজন চলছে।

 
তারকা মানের হোটেল লংবীচের ব্যবস্থাপক এ.বি.এম কামাল উদ্দিন জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবার ঈদের পরে পর্যটন মৌসুমে হোটেলের ভালো ব্যবসা হবে। ইতিমধ্যে হোটেলের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। ঈদের ছুঠিতে পর্যটক আসবে। পর্যটন শিল্পে ফিরে আসবে প্রাণ চাঞ্চল্য।

 
গত বুধবার সরেজমিন হোটেল মোটেল জোন এলাকা পরির্দশনে দেখা গেছে, হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় সব হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে চলছে ধোয়া-মোছা ও রং করার কাজ।

 
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের পর্যটন স্পট মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোও সাজছে নতুন ভাবে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটগুলোতে নানা রকমের বাহারি বার্মিজ পণ্যের সমাহার নিয়ে দোকানিরা বসে আছেন পর্যটকদের আগমনের অপোয়।

 
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান ঈদের পরে পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস ও কটেজ সব প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এখন শুধু পর্যটকদের স্বাগত জানানোর অপোয় রয়েছে পর্যটন শিল্প নির্ভর সংশ্লিষ্টরা। তিনি আরো জানান, যদি বৃহৎ পরিসরে বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে কক্সবাজারে প্রায় ২ লাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজগুলোর রুম বুকিং চলছে।

 

এদিকে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কাজে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন হওয়ার খবরে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীগণ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন। সেই সাথে তারা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপ সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে মোবরাকবাদ জানিয়েছেন। সাগরপারের তারকা মানের হোটেল লংবীচের ব্যবস্থাপক এ.বি.এম কামাল উদ্দিন জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই পর্যটকদের জান মালের নিরাপত্তা দিতে পারেন সেই প্রত্যাশাই এখন সকলের।

 
এদিকে কদিন পরেই প্রতি বছরের মত কক্সবাজার সৈকতে বসবে লাখো পর্যটকদের মিলনমেলা। এজন্যই পর্যটক বরণে এবারোও বেশ আগে ভাগেই কক্সবাজার সজ্জিত হচ্ছে নবসাজে। হোটেল মোটেল কটেজ রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প থেকে নেয়া হচ্ছে পর্যটক বরণের আগাম প্রস্তুতি। তারা প্রত্যাশা করেন এবছর যেন গত বছরের মত পর্যটক কম না আসেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments