শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeউপজেলাইট কুড়িয়ে ঈদের জামা কিনার প্রচেষ্টা

ইট কুড়িয়ে ঈদের জামা কিনার প্রচেষ্টা

দূর থেকে মনে হয়েছে শিশুরা মেঘনাপাড়ে খেলছে। একটু এগিয়ে গেলে মনে হয় শামুক-ঝিনুক খুঁজছে। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা গেছে তারা আসলে ইট কুড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এমন চিত্র চোখে পড়লো লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদী ভাঙন কবলিত আলেকজান্ডার এলাকায়।

রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের ওই অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। সেই ভাঙা সড়কের ইটের টুকরা কুড়াচ্ছে তারা। কড়াই ও বালতি ভরে তারা ইটের টুকরা রাস্তার পাশে স্তুপ করছে বিক্রির জন্য। ঈদের জমা কিনতে তাদের এ প্রচেষ্টা।

সুরমা (৭), আখি (৫) ও লাইজুদের (৬) সবত ভিটা মেঘনা গিলে খেয়েছে। এখন মেঘনাপাড়ে ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। ঈদ নিয়ে তাদের দিন মজুর বাবা-মায়ের ভাবনা নেই। ভাত-কাপড়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাদের ঠিকে থাকা। উপার্জিত টাকায় সংসারই চলে না; তাই তো তাদের আকাশে ঈদের চাঁদ নেই।

শত চেষ্টায় হয়তো স্ত্রীর শরীর ঢাকতে পারবে; কিন্তু সন্তানদের নতুন জামা দিতে পারবে না হতভাগ্য বাবারা। এজন্য ইট কুড়িয়ে অসহায় শিশুরা নতুন জামা কেনার চেষ্টা করছে। শুধু শিশুরাই নয়; উপার্জনের প্রত্যাশায় অসহায় নারীদেরও ভাঙা ইট কুড়াতে দেখা গেছে।

আলেকজান্ডার এলাকার সাহাব উদ্দিনের মেয়ে সুরমা বাংলানিউজকে জানায়, নদীর কূলে পড়ে থাকা ইট কুড়িয়ে বিক্রি করে ঈদের জন্য নতুন জামা কিনবে সে। টাকা বাঁচলে চুলের ফিতাও কিনবে।

 

 

মেঘনার ভায়বাহ ভাঙনে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার হাজার-হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে, অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে কিংবা বেড়ি বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা। তাদের কাছে ঈদ আনন্দ নেই।

ভাঙনের শিকার রইজল মিয়া (৪৫) জানান, সব হারিয়ে রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের পাশের মিয়ারবেড়ি এলাকায় টং ঘর তুলে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

রইজল মিয়া বলেন, তিনবার বাড়ি ভাঙছে। অন (এখন) আর কিছু নাই। এই ঈদে হোলাঅ্যাইনরে (ছেলে-মেয়েদের) একটা কোত্তা (জামা) কিনে দেয়ার উপায় নাই। তাদের কাছে ঈদের নতুন জামা এখন শুধুই স্বপ্ন।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঈদ উপলক্ষে অসহায় পরিবারগুলোকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুইশ’ পরিবারের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments