আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, সরকারও তৈরি

ঈদ শেষে এবার সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বৈঠকে বসবেন। সেখানেই আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। এর মধ্যে জোটের নেতাদের সঙ্গেও কথা হবে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন করার অধিকার বিএনপির আছে। তবে আন্দোলনের নামে কোনো অশান্তি সৃষ্টি করা হলে ‘হিম্মত’ দেখানোর কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

 

আন্দোলনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,  ‘‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে অবৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের দেশ পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। সরকারকে পদতাগ করে নির্দলীয়  সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই৷ ”

 

আগের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাজধানী ঢাকাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে  মির্জা ফখরুল বলেন, “ঢাকা হবে আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। তাই দলের ঢাকা মহানগর কমিটি ঢেলে সাজানো হয়েছে৷” এবার রাজধানীর মানুষ মাঠে নেমে আসবেন, আন্দোলনে শরিক হবেন বলে আশা করেন বিএনপির এই নেতা আশা করেন।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি দেবে। সংলাপের মাধ্যমে যদি সমাধান হয় তাহলে আন্দোলন তীব্র করার প্রয়োজন পড়বে না। নয়তো আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করে দাবি আদায় করা হবে।

 

তবে মির্জা ফখরুলের মতে, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চাইলেও সরকার তা চায় না। সে কারণেই সরকারের মন্ত্রীরা সংলাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ‘বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়৷’  মনোভাব বহাল থাকলে পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাবে। সাধারণ মানুষ এর জবাব দেবে বলে মনে করেন তিনি।

 

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনে করেন, বিএনপির আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, বিএনপি তার দাবি-দাওয়া নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেবে এটাই সবাই আশা করে। শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা তাদের অধিকার বলে মনে করেন তিনি৷

 

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘‘বিএনপির আন্দোলনে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা নেই৷ তাই সাধারণ মানুষের ভয়েরও কোনো কারণ নেই৷” সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

 

তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘‘দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চায়। আন্দোলনের নামে যদি এর কোনো ব্যাঘাত ঘটানো হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মাঠে নামেবে। তখন দেখা যাবে কার কত হিম্মত৷”

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘বিএনপি যদি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ তবে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের মতো জ্বালাও-পোড়াও করলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যা যা দরকার, তাই করবে।” সূত্র: ডিডব্লিউ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।