ইস্যুভিত্তিক নরম থেকে কর্মসূচি কঠোর করা হবে বিরোধী জোট

সরকার বিরোধী ‘নরম এবং অহিংস’ কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচিকে কঠোর করে সরকারের পতন ঘটানো হবে।

 

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 
এর আগে একই স্থানে দুপুর ১২টায় বিএনপির যৌথসভা রয়েছে। যৌথসভা শেষে ২০-দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন হবে।

 
গতকাল সোমবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে ২০-দলীয় জোটের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

 
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ইস্যুভিত্তিক ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মিছিল-সমাবেশের মতো কর্মসূচি হবে। আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ২০-৩০ আগস্ট সারা দেশে জোট নেতাদের গণসংযোগের কর্মসূচি হবে।

 

কর্মসূচির শুরু হবে আগামী ১৯ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

সমাবেশে বেগম জিয়া আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ও সরকারকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে শেষবারের মতো আল্টিমেটাম দিবেন।

 
সূত্র জানায়, বৈঠকে সম্প্রচার নীতিমালা, গাজায় ইসরাইলি হামলা ও মাওয়ায় লঞ্চডুবির ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে আগামী ১৬ আগস্ট দেশব্যাপী কালো পতাকা নিয়ে মৌন মিছিল করবে ২০-দলীয় জোট।

 
জোটের বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) দুপুর একটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় থেকে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

 

 
কর্মসূচি কী ধরনের হবে- সাংবাদিকদের বার বার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নরম কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি কঠোর হবে।’

 
এদিকে, সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলুকে জোট থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 
শেখ শওকত হোসেন নিলু ২০-দলীয় জোটের বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নিলুর পরিবর্তে ফরিদুজ্জামান পরবর্তীতে দলের পক্ষে জোটে নেতৃত্ব দেবেন।

 
সোমবার রাত নয়টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শুরু হয় এবং শেষ হয় রাত পৌনে ১১টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন জোটনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 
সোমবারের বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ, জামায়াত নেতা মো. আবদুল হালিম, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির পক্ষে দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মওলানা মো. ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির এডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপি গোলাম মর্তুজা, ন্যাপ জেবেল রহমান গণি, ইসলামিক পার্টির এডভোকেট আবদুল মবিন, মুসলীম লীগের কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ (ভাসানী) এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পিপলস লীগের (গরিব নেওয়াজ) সাইফুদ্দিন মনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম এবং সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে একই লক্ষ্যে রবিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।