শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeউপজেলাভোলার তজুমদ্দিনের বিতর্কিত ওসি সুলতান মাহমুদকে পিবিআইতে বদলী

ভোলার তজুমদ্দিনের বিতর্কিত ওসি সুলতান মাহমুদকে পিবিআইতে বদলী

অবশেষে ভোলার তজুমদ্দিন থানার বিতর্কিত ওসি সুলতান মাহমুদকে পুলিশ অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই) তে বদলী করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২ সেপ্টেম্বর পুলিশের ওই বিতর্কিত কর্মকর্তা এসআই আবুল হোসেনের কাছে থানার দায়িত্ব অর্পণ করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ওসি সুলতান। এতে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড, এলাকায় নিরীহ লোকদের কাছে গণ হারে চাঁদাবাজী, সরকারী গাছ ও পুকুরের মাছ আত্মসাতসহ অসংখ্য অভিযোগের হোতা ওসি সুলতান মাহমুদকে গত ২০ আগষ্ট পিবিআইতে বদলীর নির্দেশ দেয় পুলিশ হেড কোয়ার্টার। সংবাদ পেয়েই বদলীর আদেশ বাতিলের জন্য তদবির করতে ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে যান ওসি সুলতান। ঢাকায় অবস্থান কালে ২৬ আগষ্ট তজুমদ্দিন থানায় নিজেকে উপস্থিতও দেখান। এমন অভিযোগের সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসপি উত্তম কুমার সাহা থানা পরিদর্শনে এসে ওসি সুলতান মাহমুদকে না পেয়ে তাকে অনুপস্থিত দেখান। পরে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রীও করেন তিনি। মঙ্গলবার পুলিশের ওই বিতর্কিত কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। কর্মস্থল ত্যাগ করার পূর্বে থানায় ঘোষণা দিয়ে গেছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে বদলীর আদেশ বাতিল করে আবার এখানে পোষ্টিং করাবেন।

 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক অফিসার জানান, কিছুদিন পূর্বে ওসি সুলতান মাহমুদ থানার বাউন্ডারীর মধ্যে হতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের ৮টি মেহগণি গাছ, ৪৫ হাজার টাকামূল্যর ৩টি তালগাছ ও থানার পুকুর থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মাছ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে গোপনে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের ওই অফিসার।  এসব গাছের কাঠ দিয়ে বাসার জন্য দামী ফার্ণিচার তৈরি করেন ওসি। থানার পুকুর ও স্থানীয় মাছের আড়তের বড় বড় মাছের প্যাকেট গেছে ঢাকায় ওসির এক নিকট আত্মীয় ও বিএনপি দলীয় সাবেক এক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসায়। এমন অভিযোগ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও রয়েছে।

 
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ওসি সুলতান মাহমুদ দুই মেয়াদে তজুমদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে গত বছরের ৩১ জুলাই যোগদানের পরপরই মেঘনা নদীতে সাধারণ জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকিও দেন তিনি। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বদলী হয়ে আবার ৪ মাস পর তদবির করে তজুমদ্দিন থানায় যোগ দেন।

 
স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি সাধারণ অভিযোগ দাখিলের জন্য ২ হাজার, পুলিশ তদন্তের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার, প্রতিটি হোন্ডা-নসিমন স্ট্যান্ড থেকে মাসে ১০ হাজার করে, অবৈধ কারেন্ট জাল থেকে ৫ হাজার টাকা করে, আসামী আটক করে ১০ হাজার, নারী নির্যানত ও যৌন হয়রানী অভিযোগের কারনে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত করে চাঁদা আদায় করা হতো ওসির এক বিস্বস্ত কনস্টেবলের মাধ্যমে। এসব কারনে স্থানীয় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়ে অনেকে থানায় আসা বন্ধ করে দেয় বলে জানায়।
এদিকে, তার  বদলীর খবরে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 
এসব বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হুমায়ুন কবির এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, এসব বিষয়ে অভিযোগ তার কাছে আছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াগত ভাবেই তদন্ত হবে। এব্যাপারে ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিকে তাকে বদলি করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments