লাকসাম-মনোহরগঞ্জে ১৩টি ইটভাটায় বিলুপ্তির পথে কয়েক হাজার একর কৃষি জমি

কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জে সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠেছে ১৩টি ইটভাটা। কাঠপোড়ানোর কালোধোঁয়া , কৃষি জমির টপসয়েল সংগ্রহের ফলে পরিবেশ আজ হুমকির মুখে ।এ দুই উপজেলার কয়েক হাজার একর আবাদী কৃষি জমি আজ বিলুপ্তির পথে ।

 
জানা গেছে, লাকসামে ৮টি ও মনোহরগঞ্জে ৫টি ইটভাটায় পুরোদমে ইট তৈরী হচ্ছে। সিংহভাগ ইটভাটায় গ্যাস ও কয়লার পরিবর্তে প্রতি বছরে কয়েক হাজার টন কাঠ পড়ানো হয়। সব কটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে আবাদী কৃষি জমিতে। এতে বিলুপ্ত হচ্ছে কয়েক হাজার একর আবাদি কৃষি জমি এবং পরিবেশ দুষনের ফলে জন জীবন বিপর্যয়ের মুখে ।
ইটভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেনা ভুক্তভোগী সাধারন জনগণ। ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর , বনবিভাগ ও কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইব্রিড হফম্যান, জিগ-জ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন বা বিএসটিআই পরীক্ষিত প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধবসহ সরকারী অন্যান্য দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন।

 
সরজমিনে দেখা যায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় হাইব্রিড হফম্যান, জিগ-জ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন বা বিএসটিআই পরীক্ষিত প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধবসহ সরকারী নীতিমালা অমান্য করে জেলা-উপজেলা প্রসাশনের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকতাদের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 
ইটভাটা গুলির  বিরুদ্ধে বছরে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর দায়সারাতে  মাঝে মধ্যে ২/১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও জেলা-উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১২ ও ৪ এর ২-৩ অনুচ্ছেদে আবাদী কৃষি ভুমি, পরিবেশ সংকটাপন্ন ও জনবসতি পুর্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন দন্ডনীয় অপরাধ। অধিকাংশ ইটভাটার প্রয়োজণীয় কাগজপত্র, ইট তৈরীর উন্নত ও পরীক্ষিত কোন সরঞ্জাম নেই বললেই চলে।

 
স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, গত ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্র জারি করে সরকার । পুনরায় ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পূর্বের সনাতন পদ্ধতির ইটভাটার কোন প্রত্যায়ন পত্র ও ছাড়পত্র নবায়ন করা হবে না বলে সংশোধিত আরেকটি পরিপত্র জারি করেন। এমনকি একটি সময়ের মধ্যে পূবের্র সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাকে পরিবেশ বান্ধব কমপ্রেসড ব্লক ইট বা অনুরূপ কোন ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করার নির্দেশনা  প্রদান করেন।

 
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানায়, সরকারী বিধিমালা অনুসারে পরিবেশ ও আইন বিভাগের ছাড়পত্র এবং প্রত্যায়নপত্র ব্যাতিরেকে কেউ কোন ইটভাটা স্থাপন কিংবা পরিচালনা দন্ডনীয় অপরাদ।

 
গত বছর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই’র অনুমোদন ও ইটের গুনগত মানের ত্রুটি থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কয়েকটি ইটভাটার মালিককে নগদ টাকা জরিমানা ও কুমিল্লার আদালতে  মামলা দায়ের করেন। তাই অনতীবিলম্বে এ সব ইটভাটার মালিকদের লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে এ দুই উজেলায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।