মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 25, 2022
spot_img
HomeUncategorizedসৌদি আরবের জেদ্দায় পুলিশী প্রতিবেদন না পৌছায় কক্সবাজারের ১০ হাজারের অধিক শ্রমিক...

সৌদি আরবের জেদ্দায় পুলিশী প্রতিবেদন না পৌছায় কক্সবাজারের ১০ হাজারের অধিক শ্রমিক এখনো পাসপোর্ট পায়নি

সৌদি আরবের জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুল্যাট কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্সবাজার জেলার শ্রমিকদের বাংলাদেশী নাগরিকত্বের কাগজপত্রাদি নিয়ে পাসপোর্টের জন্য ২০১৩ সালের জুন মাসে আবেদন করলে কনসুল্যাট কর্মকর্তারা ওই সব কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। ওখান থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কক্সবাজার ডিএসবি অফিসে পুলিশি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ডিএসবি অফিসের কর্মকর্তারা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট দায়িত্ব দেয়।

 

পুলিশ জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয়তা সনদ, পিতা-মাতার পরিচয় পত্রসহ বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন কক্সবাজার ডিএসবি অফিসে পাঠান। ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পুলিশী প্রতিবেদন পাঠানো হলেও অদ্যবদি ওই পুলিশ প্রতিবেদন জেদ্দা দুতাবাসে না পৌছায় শত শত শ্রমিকেরা পার্সপোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যার ফলে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আকামার মেয়াদ বাড়াতে না পারলে দেশেই ফিরে আসতে হবে। বর্তমানে ওই সব শ্রমিকেরা হতাশা নিয়ে জীবন যাপন করছে।
২০১৩ সালের জুলাই মাসের শুরুতে পুলিশী প্রতিবেদন কাগজ পত্রাদি জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে না পৌছায় শ্রমিকরা দিনের পর দিন দূতাবাসে গিয়ে ধর্ণা দিয়েও পাসপোর্ট পাচ্ছে না। যার ফলে শ্রমিকদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে সৌদি সরকারের বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে পাসপোর্ট পায়নি তারা। ১ বছর পার হয়ে গেলেও সৌদি আরবে অবস্থানকারী কক্সবাজারের শ্রমিকেরা জেদ্দাস্থ কনসুল্যাট কার্যালয়ে বার বার গিয়ে ধর্ণা দিয়েও পাসপোর্ট না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। জেদ্দাস্থ কনসুল্যাট কর্মকর্তা শ্রমিকদের পুলিশি ভেরিফিকেশন পৌছেনি বলে জানিয়ে দেওয়ায় কক্সবাজারের ১০ হাজারের অধিক শ্রমিকেরা দিন কাটাচ্ছে চরম হতাশায়।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি অংসা থোয়াই জানান, সৌদি আরবের জেদ্দা দূতাবাস থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকের আবেদনের প্রেেিত পাঠানো তথ্যা যাচাই বাছাই করে ২ শতাধিক লোকের কাগজ পত্র যাছাই-বাছাই করে কক্সবাজার ডিএসবি পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ওখান থেকে জেদ্দা দূতাবাসে ওই সব কাগজ পত্র এতদিন পরও না পৌছলে তা আমাদের করার কিছু নাই। টেকনাফ থানার ওসি মোকতার হোছনের নিকট জানতে চাইলে তিনিও জেদ্দা দূতাবাস থেকে পাঠানো দেড় শতাধিক লোকের পাসপোর্টের ভেরিফিকেশন পাওয়ার পর তদন্ত শেষে কক্সবাজার ডিএসবি অফিসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ওই সব শ্রমিকেরা এখনো পুলিশী প্রতিবেদন দুতাবাসে না পৌছায় পাসপোর্ট পায়নি বলে জেদ্দায় শ্রমের কাজে নিয়োজিত টেকনাফ উপজেলার ছব্বির আহমদ, আজিজ ও রশিদ আহমদ জানিয়েছেন।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব দরগাহবিল গ্রামের ফকির আহমদের ছেলে ছৈয়দ নুর ও ফরিদ আলম বর্তমানে মক্কা শহরের মিসফল্লাহ খোদায় এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন স্বপরিবারে। গতকাল বুধবার মুঠোফোনে জানান, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের পুলিশি ভেরিফিকেশন পৌছেঁছে কিনা জানতে চেয়ে ধর্ণা দিলেও দূতাবাস কর্মকর্তারা বলেছেন এখনো তাদের নিকট পুলিশি প্রতিবেদন পৌছেনি। তারা জানান, পাসপোর্ট না পেলে সবকিছু হারিয়ে স্বপরিবারে দেশে ফিরে আসতে হবে। উখিয়া থানার তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ফকির আহমদের ছেলে ছৈয়দ নুর, হাসিনা, ফরিদ আলম, রাহমা, ছালেহা, আপনান, মোহাম্মদ ও আহমদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্ট পাওয়ার প্রতিবেদন উখিয়া থানা থেকে ২০১৩ সালের জুলাই মাসের ২ তারিখ ২৩০৪ স্মারক মূলে কক্সবাজার ডিএসবি অফিসে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার ডিএসবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুলিশী প্রতিবেদন তারা সঠিক সময়ে ঢাকাস্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
প্রবাসীদের সহযোগিতার কথা বলে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ০০৯৬৬২৬৮৭৮৪৬৫ টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার কথা বলা হলেও কিন্তু বেশ কয়েকবার ওই নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় দূতাবাস কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments