ভোলার মেঘনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ॥ হুমকির মুখে পড়েছে লোকলয়

ভোলার মেঘনা নদী থেকে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকার দলীয় একটি প্রভবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিকভাবে ওই বালু তোলায় মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ভোলা শহর রক্ষাবাধসহ লোকালয়। বিষয়টি জেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংএ তোলা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

 
স্থানয়ীরা জানায়, ইলিশা রাজাপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তোলা এসব বালু শহরের বেড়িবাঁধ নির্মান, সদর উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর-নিচু জমি ভরাট ভবন নির্মানসহ নানা কাজে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

ফসলি জমি ছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে ভোলা শহর। ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প। প্রতিদিন নদী থেকে তিনটি ড্রেজার দিয়ে এক লাখ ফুট থেকে দেড় লাখ ফুট বালু তোলা হচ্ছে। যার মূল্য ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা। গত এক মাসে প্রায় ছয় কোটি টাকার বালু তুলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 
ভোলার ইলিশা ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে গিয়ে দেখা যায় ‘রাকিব ড্রেজার-৩’, ‘এমবি ভাই ভাই সোনার গাঁও’ ও হেপিরিমা ড্রেজিং প্রকল্প নামের তিনটি ড্রেজার দিয়ে মেঘনা নদীর মধ্য থেকে বালু তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনটি ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত সেই বালু নদী থেকে বেশ কয়েকটি বলবো (বালুবাহী কার্গো) দিয়ে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভোলা শহরে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এসব বালু বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন বলে বলে জানা গেছে।

 
নদী থেকে বালু উত্তোলনরত এমবি ভাই ভাই সোনার গাঁও ড্রেজারের সুপারভাইজার মোঃ নুর হোসেন ও স্টাফ মাসুদ রানা, রাকিব ড্রেজার-৩ এর ম্যানেজার মতিউর রহমান, স্টাফ মোঃ রাসেল ও আল ইসলাম জানান, তাদেরকে ফারুক, বাবুল মেম্বার ও শরিফ মোল্লা ভোলায় বালু তোলার জন্য এনেছেন। প্রতি বর্গফুট বালু ৫০ পয়সা হিসেবে তাদের সাথে চুক্তি হয়েছে।

 

প্রতিদিন নদী থেকে প্রায় ২০ হাজার ফুট বালু তুলে ৪-৫টি বালুবাহী বলবো (কার্গো) দিয়ে বালু সরবারহ করা হচ্ছে। ভোলার বজলু মাঝির মাধ্যমে এসব বালু বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। গত ৩-৪ দিন ধরে তারা এখানে নদী থেকে বালু তুলছেন। নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার বিষয়ে তারা প্রশাসনের কোন অনুমতিপত্র দেখাতে পরেননি।

 
ভোলার মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।