আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস

আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটে। মুক্তি পায় গণতন্ত্র। এবারের স্বৈরাচার দিবসের দৃশ্যপট একেবারেই আলাদা। এরশাদ এখন রাজনীতির নিয়ামক।

 

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগের পাশেই আছেন স্বৈরাচার এরশাদ। বিএনপিও তাকে কাছে পেতে কম চেষ্টা করেনি। দুই দলই নিজেদের স্বার্থে এরশাদকে রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন করে দিবসটিকে স্মরণ করা হয়। এ সময় অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয়ে শপথ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ সরকার দেশের রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে গণবিরোধী ধারা প্রবর্তন করে। রাজনৈতিক নেতারাও ছাত্র আন্দোলনে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন।

এরশাদের প্রায় নয় বছরের শাসনামলেই দেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। একপর্যায়ে সারা দেশে এরশাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার প্রত্যায় ঘোষণা করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর হরতালের সময় নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদের বাহিনী গুলি করে। যার বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক-গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা ছিল।

অন্যদিকে, ওই দিন সেনা ও পুলিশ বাহিনী আমিনুল হুদা টিটোকে মেরে গুম করে। এই ঘটনায় সকল মানুষ এক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদ হঠানোর আন্দোলনে নেমে পড়ে। এভাবে ঘটনাক্রমিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এরশাদ ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা করে। দীর্ঘ ৯ বছরের শাসনের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর।

৬ ডিসেম্বর আজকের এই দিনে তিন  জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্রে বিজয় উপলক্ষে প্রত্যেক বছরই দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে আসছে। আর জাতীয় পার্টি দিনটিকে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।