শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাকুমিল্লায় বিদায়ী বছরে ১৩০ খুন ॥ ৬ হাজার ১০৪ টি অপরাধ সংঘটিত...

কুমিল্লায় বিদায়ী বছরে ১৩০ খুন ॥ ৬ হাজার ১০৪ টি অপরাধ সংঘটিত ॥ উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ

কুমিল্লার ১৬উপজেলায় বিদায়ী বছরে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৩০টি। জেলায় সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনার ঘটেছে কুমিল্লা কোতয়ালী থানাধীন এলাকায়। সদর উপজেলায় বিদায়ী বছরে খুন হয়েছে ২৩টি। আর কম খুনের ঘটনার দিক থেকে মেঘনা, হোমনা ও লাকসাম উপজেলায় ২টি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। গেলো বছর কুমিল্লার বেশ কটি খুনের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। খুন, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, অস্ত্র, মাদক এবং চোলাচালানসহ অন্যান্য ধরণের ছয় সহস্রাধিক অপরাধের ঘটনা বিদায়ী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘটেছে।

 

গেলো ২০১৪ সাল কুমিল্লায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও দলীয় আধিপত্য, চুরি, ছিনতাই, পূর্ব শত্রুতার জের, পারিবারিক কলহ, জায়গা দখল, অপহরণ, মুক্তিপন এসব নিয়েই খুনের ঘটনা ঘটে। এসব খুন খারাবি বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় গেলো বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এবং জেলা পুলিশ কার্যালয়ের ডিসেম্বরের খসড়া প্রতিবেদনের আলোকে অপরাধচিত্রে কুমিল্লার ১৬উপজেলায় বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ৬ হাজার ১০৪টি। তারমধ্যে সবধরণের অপরাধে শীর্ষে রয়েছে কোতয়ালীর সদর উপজেলা। এখানে ১হাজার ৪০৮টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

 

৭৩০টি অপরাধের ঘটনা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সদর দক্ষিণ উপজেলা। তৃতীয় অবস্থানে বুড়িচং উপজেলা। এ উপজেলায় মোট অপরাধের সংখ্যা ৫৪৩টি। আর ৫০৯টি অপরাধের ঘটনায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। বিদায়ী বছরে কোতয়ালীর সদর ২৩খুনের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। ১৪টি খুনের ঘটনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দাউদকান্দি।

 

১৩টি খুনের ঘটনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মুরাদনগর উপজেলা।

 

এছাড়াও গেলো বছর তিতাস উপজেলায় ১২টি, দেবিদ্বার ও চান্দিনায় ১১টি করে, চৌদ্দগ্রামে ১০টি, সদর দক্ষিণে ৯টি, বুড়িচং ও ব্রাক্ষণপাড়ায় ৬টি করে, বরুড়ায় ৪টি, মনোহরগঞ্জে ৩টি এবং লাকসাম, মেঘানা, হোমনা উপজেলায় ২টি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। গেলো বছর খুনের ঘটনা বেশি ঘটেছে এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে। তারমধ্যে এপ্রিল মাসে ১৬টি, জুন মাসে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

 

আলোচিত খুনের ঘটনার মধ্যে ২জানুয়ারি সদর দক্ষিণে মক্রম আলী নামে এক আ’লীগ নেতাকে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ৭ফেব্রুয়ারি দেবিদ্বারে গৃহবধূ শাহিনাকে স্বামীর ভাড়াটে খুনিরা হত্যা করে একটি গভীর নলকুপে লুকিয়ে রাখে। ১৩মার্চ শাহিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। ৫এপ্রিল মাদকসেবি দুই বন্ধুর হাতে খুন হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হাসিবুল হক ইমন।

 

১৫এপ্রিল মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় নগরীর সংরাইশের নলুয়া পাড়ায় ছেলেকে না পেয়ে পিতা জানু মিয়াকে গুলি করে খুন করা হয়।

 

২৯মে নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন তরুণ ব্যবসায়ি আহসান হাবিব সুমু। নিহত সুমু কুমিল্লা সদরের এমপি হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহারের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। ১জুন বুড়িচংয়ের মোকামে খুন হয় ছাত্রদল কর্মী মাসুদ।

 

২৫জুন মেঘনায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে খুন হয় যুবলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ। ১০জুলাই লাকসামের আশকামতা গ্রামে শ্বশুর চাঁন মিয়া খুন হয় পুত্রবধূ তাসলিমার হাতে।

 

২৮আগষ্ট ব্রাক্ষণপাড়ায় সুলতান আহমেদ বাবুল নামে এক ব্যবসায়িকে কুপিয়ে খুন করা হয়।

 

৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার কালখারপাড় গ্রামে ছোট ভাই খুন করে বড় ভাই ব্যবসায়ি শাহআলমকে।

 

১৭অক্টোবর বুড়িচংয়ে নাজমুল হাসান নামে এক স্কুল ছাত্র খুন হয়। ২২নভেম্বর নগরীর থিরাপুকুরপাড় গ্রামের একটি ডোবা থেকে হত্যার ৫০দিন পর তোতা মিয়া নামে এক গরু ব্যবসায়ির লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

১৪ডিসেম্বর দাউদকান্দির কৃষ্ণপুর গ্রামের গোমতীর বাধে ইসহাক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে রিভলবারের গুলিতে খুন করে সন্ত্রাসীরা। ২৭ ডিসেম্বর নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি বাড়ির ঘরের খাটের ভেতর থেকে শ্বাসরোধে হত্যা করা তাকওয়া নামে এক ইপিজেড নারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সামাজিক অস্থিরতা অবক্ষয়ের কারণে কুমিল্লায় খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

ছাত্রনেতাদের আধিপত্যবিস্তার, পারিবারিক কলহ, জমি-জমা নিয়ে দ্বন্ধ, যৌতুকের কারণে, স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া ঘটনায়, প্রেমের ঘটনায়, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায়, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বা মাদক সেবন ও লেনদেনসহ অপ্রাসঙ্গিক নানা বিষয় নিয়ে অহরহ খুনের ঘটনা বৃদ্বি পোেয়ছে। এতে উদ্বিগ্ন ও আতংকিত হয়ে পড়েছেন কুমিল্লার সাধারণ মানুষ।

 

খুনের ঘটনার নতিপত্র ঘিরে পুলিশও হিমশিম খাচ্ছে। একটি খুনের তদন্ত শুরু না হতেই আরেকটি খুন। তাই সামাজিক অস্থিরতা কমলে সব ধরণের অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments