সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
সোমবার, নভেম্বর 29, 2021
spot_img
Homeঝিনাইদহঝিনাইদহে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল গুড়, আসছেনা ভেজাল বিরোধী অভিযান

ঝিনাইদহে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল গুড়, আসছেনা ভেজাল বিরোধী অভিযান

ঝিনাইদহ জেলার হাট-বাজারে ভেজাল গুড় পাটালী দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড় পাটালী তৈরীর কারখানা ধংস করলেও তা কোন কাজে আসছে না।

 

সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার নিমতলা বাসস্টান্ড সংলগ্ন অবৈধ গুড় পাটালীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে ধংস করে দেয়া হয় তাদের সকল সরঞ্জামাদি। গুড়িয়ে দেয়া হয় ভেজাল গুড়পাটালী তৈরীর কারখানা।

 

অজ্ঞাত কারণে তারা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভেজাল গুড় পাটালী তৈরীতে। বাজারে চিনি মিশ্রিত খেজুর পাটালি দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। ভেজাল পাটালির কারণে খেজুর পাটালির স্বাদ ভুলতে বসেছে লোকজন।

 

বাজারে এক কেজি চিনির দাম ৪৫ টাকা সেখানে খেজুর পাটালির সাথে ভেজাল  দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। বিরাট এ লাভের কারণে খেজুর পাটালির উৎপাদনকারীরা চিনি মিশ্রিত করে অধিক মুনাফা লুটছে। চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।

 

শীতে নবান্যের আমেজ এখন গ্রাম থেকে শহর, গঞ্জে বিরাজ করছে। চলছে খেজুর গুড় পাটালির পিঠা পুলির  উৎসব। আর কেউ না জেনে আবার কেউ বাধ্য হয়ে ব্যবহার করে যাচ্ছেন চিনি মিশ্রিত ভেজাল খেজুর গুড় পাটালি।

 

এ ভেজালকারীদের  বিরুদ্ধে সম্প্রতি ব্যবস্থা নিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে প্রশাসন। কিন্তু তাতে ভেজালকারীদের মধ্যে কোনরুপ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 

আইনগত ব্যবস্থা নিয়েও কোন কাজ না হওয়ার পিছনে রয়েছে ঘাপটি মেরে থাকা আমলা আর অসাধু প্রশাসনের সদস্যদের সাথে নগদ নারায়ন লেনদেন। ফলে আগের থেকে আরো বেশি সাহসের সাথে একপ্রকার বাঁধাহীনভাবেই দেদারছে বিক্রি করে যাচ্ছে ভেজাল উৎপাদনকারীরা।

 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এমনি ভেজাল গুড় পাটালীর ব্যাপক বাজারজাত। জানা গেছে, ভেজাল কারখানায় তৈরীকৃত গুড় পাটালীর সাথে গ্রামের গাছীরাও শুরু করেছে অসৎ পন্থা অবলম্বন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালীগঞ্জের জনৈক উৎপাদনকারী (গাঁছি) বলেন, ভোরে গাছ থেকে রস নামিয়ে  কড়াইয়ে জ্বাল দিলে যখন লাল বর্ণ ধারণ করে তখন চিনি ঢেলে দেয়া হয়। এর পর সামান্য জ্বাল দিলে চিনি রসের সাথে মিশে যায়।

 

এর পর হাইড্রোস, ফিটকারি দিয়ে তৈরি করা হয় খেজুর গুড়ের পাটালি। এ গুড়ের রং উজ্জল ও দেখতে সুন্দর হয়। ফলে বাজারে এর চাহিদা বেশি। আরো জানা গেছে, এমননি উৎপাদন কারীর সংখ্যা সর্বত্রয় হওয়ার কারণে এলাকার হাট-বাজারে আনা খেজুর পাটালির ৯৫ ভাগই চিনি মিশ্রিত।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহেশপুরের একজন গাঁছি বলেন, স্বাভাবিকভাবে পাটালি তৈরি করলে চাহিদা কম মূল্যও কম। ফলে চাহিদার স্বার্থে ভেজাল দিতে হচ্ছে।

 

এক পাটালির আড়তদার জানান, বাজারে আসা অধিকাংশ পাটালি চিনি মিশ্রিত জেনেও ব্যবসার স্বার্থে কিছু করার থাকে না। কারণ চিনি মিশ্রিত পাটালির চাহিদা বেশি।

 

কালীগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, খেজুরের রসে চিনি, হাইড্রোস,ফিটকিরি,স্যাগারিন জাতীয় বিভিন্ন দ্রব্য মিশিয়ে ভেজাল দিলে তা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। ভেজাল পণ্যে শরীরের ক্ষতি হয় এটা স্বাভাবিক।

 

গ্যাস্টো বিশেজ্ঞ ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খেজুর রসের সাথে চিনি ফিটকিরি,হাইড্রোস মিশিয়ে জাল দিলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ গুড়ের তৈরি খাবার খেলেও পেটেরপীড়া এমনকি লিভার ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি থাকে।

 

প্রত্যহ বাজারের গুড় পাটালী কঠোরভাবে তদারকি আর আইনি কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ ছাড়া ভেজাল মুক্ত সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এজন্য এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রশাসনের  আরে কঠিন ও বাস্তাব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments