প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন অসুস্থ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই

ক্ষমতাগ্রহণের এক বছর পূর্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেন। বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা অসুস্থ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।

 

শেখ হাসিনা বলেন আমাদের সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবারো অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যাকারী রাজাকার-আলবদরদের বিচারের কাজ এগিয়ে চলছে। রায় কার্যকর করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করবো।’

 

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ‘এই বিচার বানচাল করতে, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে অন্ধকারের অপশক্তি যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, জনগণের মঙ্গল চায় না তারা আবারো ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের চেষ্টা করছে।’

 

তার মতে, বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেয়াটা ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের এই রাজনৈতিক ভুলের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে?

 

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নাশকতা, মানুষ হত্যা, বোমা-গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসংযোগ, জানমালের ক্ষতি করা বন্ধ করুন। আপনার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ আপনি ও আপনার দল সংসদে নেই। আপনি কাকে দোষ দেবেন? আপনার নিজেকেই দোষ দিতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘যে পথে আপনি (খালেদা জিয়া) চলছেন তা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরো হারাবেন। মানুষ নিরাপত্তা চায়, শান্তি চায়, উন্নতি চায়।’

 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা অসুস্থ রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যে রাজনীতি দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য সেই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

 

ভাষণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া আগামী ২০২১ সালের আগেই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধান বিরোধী জোট বিএনপি-জামায়াতসহ নিবন্ধিত ৪১টি রাজনৈতিক দলের ৩০টির বর্জনের মধ্যে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মূলতঃ ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে কেউ ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

 

ব্যাপক সহিসংতার মধ্যে ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে বিনাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৫৪ আসন আগেই জিতে নেয়। বাকি আসনের নির্বাচনও ছিল প্রতীকী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।