শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeভোলাভোলায় বিনামূল্যে দেয়া হাস ও ছাগল মারা যাচ্ছে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের সাথে...

ভোলায় বিনামূল্যে দেয়া হাস ও ছাগল মারা যাচ্ছে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের সাথে ব্রাক ম্যানেজারের অশোভন আচরণ

ভোলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের সিএফপিআর ও টিইউপি প্রকল্পের আওতায় অতিদরিদ্র নারীদের মাঝে বিতরণ করা ছাগ ও হাঁস মারা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বাজারের সব চেয়ে দুর্বল, অসুস্থ ও কম দামী ছাগল ও হাঁস বিতরণ করায় দরিদ্র পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়নি ইলিশা ব্রাক অফিস। উল্টো সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচারণ করেন ইলিশা শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিহার রঞ্জন ঘোষ।

 
অভিযোগে প্রকাশ, গত ২ মাস পূর্বে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সোনাডগী গ্রামসহ বেশ কছিু এলাকায় ব্রাক দরিদ্র নারীদের মাঝে পরিবার প্রতি ৫টি করে ছাগল ও ১০টি করে হাস বিতরণ করে। ওই হাস ও ছাগল বিতরনের পর থেকে অধিকাংশ ছাগল ও হাস মারা যায়। এ তথ্য সংগ্রহ করতে তিগ্রস্থ এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি হাসিব রহমান, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি নেয়ামত উলল্যাহ ও বাংলানিউজ প্রতিনিধি ছোটন সাহা।

 
এ সময় সোনাডগী গ্রামের নারী রহিমা, হোসনে আরা ও ময়ফুর নেছাসহ অন্যরা জানান, ২মাস পূর্বে ব্রাক তাদের ছাগল ও হাঁস বিতরণ করে। কিন্তু  কিছুদিন যেতে না যেতেই বেশিরভাগ হাস মারা যায়। কিছু কিছু ছাগলও মারা যায়। গৃহিনী মরিয়ম জানান, তাকে ৫টি ছাগল দেয় ব্রাক। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় তার একটি ছাগল মারা যায়। ব্রাক কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোন লাভ হয়নি। একই গ্রামের জাহাঙ্গিরের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেণ, ব্রাকের দেয়া অসুস্থ ছাগল মারা গেছে। বিনামূল্যের ওই ছাগল পেলেও আমাদের উপকারের চেয়ে অনেক লোকসান হয়েছে।

 

 

নারীরা জানান, জন প্রতি ১০টি করে হাস দিয়েছে। এর বেশিরভাগ হাস মারা গেছে তাদের ধারণা রোগা অসুস্থ হাঁস দেয়ায় ওগুলো মারা গেছে। দরিদ্র নারীদের সাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ছাগল ও হাঁস বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এতে দরিদ্র পরিবারগুলোর তিগ্রস্থ হয়েছে বলে ওইসব নারীরা অভিযোগ করেন।
এদিকে, হাস ও ছাগলের মারা যাওয়ায়র বিষয়ে স্থানীয় ইউশিা ব্রাক কার্যালয়ে তথ্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেয়নি ব্রাক অফিসার নিহার রঞ্জন ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের কোন তথ্য না দিয়ে অশোভন আচরণ করেন।

 
প্রথম আলো প্রতিনিধি নেয়ামত উল্ল্যাহ ও জনকন্ঠের হাসিব রহমান অভিযোগ করে বলেন, নারীদের মাঝে কি পরিমান ছাগল ও হাস বিতরণ করা হয়েছে এবং বিতরণকৃত ছাগল ও হাঁস কেন মারা গেছে এ বিষয় জানতে গেলে ব্রাক কর্মকর্তা আমাদের কোন তথ্য দেননি। তিনি নানা রকম তালবাহ করে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচারণ করেন। এক পর্যায়ে ব্রাক কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেয়া হবেনা বলে জানিয়ে দেন।

 
এদিকে, ৩ সাংবাদিকদের সাথে খারার আচারনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ভোলা প্রেসকাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম ও অনলাইন জার্নালিস্ট ফোরামের নেতৃবৃন্দ। তারা দোষী ব্র্রাক কর্মকর্তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 
এ ব্যাপারে ভোলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, এর আগেও ব্রাক চরফ্যাশনে বেশ কিছু ছাগল বিতরণ করে, সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ মারা যায়। ভোলা সদরে তারা আমাদের না জানিয়ে হাস ও ছাগল বিতরণ করেছে। আমরা বিষয়টির তদন্ত করে দেখছি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments