শনিবার, ডিসেম্বর 4, 2021
শনিবার, ডিসেম্বর 4, 2021
শনিবার, ডিসেম্বর 4, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিযৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বিএনপি

যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বিএনপি

বিএনপির লাগাতার অবরোধে অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করেছে দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার রাতে স্থায়ী কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাঙ্খিত ও যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার জন্য আমরা দেশবাসী, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে সারাদেশে নেতাকর্মীরা মিছিল-মিটিং করছেন। তাদের উপর বিনা উসকানিতে আইনশৃংখলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের অনুগত সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গুলি ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। গুলিতে ইতোমধ্যে আন্দোলনকারী অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন। চলছে নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার। নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনে যারা শহীদ হচ্ছেন তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যারা আহত ও নির্যাতীত হচ্ছেন তাদের প্রতি আমাদের অফুরন্ত সহানুভূতি। দেশে গণতন্ত্র ফিরলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসিত করব ইনশাআল্লাহ।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ এই অবরোধ কর্মসূচিকে ব্যর্থ করতে ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সন্ত্রাস, নাশকতা, অন্তর্ঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি অপপ্রচারণা জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে সরকার সমর্থক সন্ত্রাসীরা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতার বাসা ও অফিসে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে সারাদেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বোমা নিক্ষেপ এবং ১২ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের পাশে ককটেল নিক্ষেপকালে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বোমাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেও তাদেরকে সরকারি নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টে রাখা বোমা ও গুলি ভরা পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। এদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলেও সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, সুপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতাসীনরাই সন্ত্রাস, নাশকতা ও অন্তর্ঘাত চালিয়ে তার দায় আন্দোলনরত বিরোধী দলের ওপর চাপাবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশবাসী দেখছেন, গণতন্ত্রে আস্থাহীন ও একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ইতোমধ্যে নানামুখী ভীতিপ্রদর্শন ও কঠোর সেন্সরশীপ প্রয়োগের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হরণ করেছে। ফলে দেশের প্রকৃত চিত্র এবং জনগণের আন্দোলনের সঠিক খবর প্রচার করতে সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হচ্ছে।

তারা একতরফা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে চলেছে, কিন্তু এর জবাব আমাদের কোনো নেতা দিলেই তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের টক শো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেউ ক্ষমতাসীন অপকর্ম তুলে ধরলে বা অপপ্রচারণার জবাব দিলে তাকেও সাজানো মামলায় আটক করা হচ্ছে। অপর দিকে ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্যপুষ্ট চরম পক্ষপাতদুষ্ট কিছু প্রচার মাধ্যমকে আমাদের বিরম্নদ্ধে অপপ্রচারণার বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা নানান কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিরোধী দলের চরিত্রহনণ ও জনগণের আন্দোলন-বিরোধী প্রচারণা অহর্নিশ চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও জুলুম-পীড়ন উপেক্ষা করে জনগণকে সঙ্গী করে আমাদের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। তাদের এই ত্যাগ বৃথা যাবেনা।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে সারাদেশে এবারের আন্দোলন শুধু বিএনপি বা ২০ দলের নয়। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি দল ও শক্তিসহ দেশবাসীর। এই আন্দোলনের এক পক্ষে আছেন ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ আর অপরপক্ষে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার। কাঙ্খিত ও যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার জন্য আমরা দেশবাসী, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষের কষ্ট, দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ সহানুভূতিশীল ও সজাগ। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা যেভাবে রক্ত ঝরিয়েছে, গুম করেছে, জাতীয় অর্থনীতির বিনাশ করেছে, সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, লুণ্ঠন করেছে, মানুষকে নির্যাতন ও অপমান করেছে তার অবসানকল্পে ধৈর্য্য ধরে সাময়িক কষ্ট স্বীকারের জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। শানিত্মপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে উদ্ধত শাসকদের অস্ত্রের ভাষা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসী যত দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামবেন, জনগণের বিজয় ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিদ্বদ্বিতা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গায়ের জোরে জনপ্রতিনিধিত্বহীন বর্তমান সরকার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এমন একটি সরকারের আদেশ-নির্দেশ ও কর্তৃত্ব মেনে চলতে জনগণের এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। তা সত্বেও তারা অন্যায় ও অবৈধভাবে দলীয়করণকৃত রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠাগুলোকে দেশবাসীকে দমন ও জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে চরমভাবে অপব্যবহার করছে। এতে জনগণ চরম ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে, অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সারাদেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতিষ্ঠ জনগণের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা সত্ত্বেও আমরা কঠোর আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি না নিয়ে একটি বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্ব বারংবার দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য আলোচনার মাধ্যমে একটি ফয়সালার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্ত ক্ষমতাসীনরা সে ধরণের উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে তাদের আগেকার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘণ করে চাতুরি, প্রতারণা, অপকৌশল ও অপপ্রচারণার আশ্রয় নিয়ে চলেছে। পরিহাস, অশ্লীল আক্রমণাত্মক ভাষা ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তারা সমঝোতার আহ্বানকে নাকচ করে এসেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও ভোটারবর্জিত কলঙ্কিত নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে তারা যে গুরুতর ভুল ও অন্যায় করেছে তার খেসারত দিতে বা শোধরাতে তারা রাজি নয়। তাদের কথা ও কাজে এর দায় তারা আমাদের উপর চাপাতে চায় এবং এর খেসারত জনগণকে দিয়ে দেয়াতে চায়। জনগণ তাদের নির্বাচনী প্রহসন বর্জন করায় ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় বসা সরকার জনগণকে আরো দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়।

আমরা গত এক বছরে কোনো আন্দোলন না করলেও এই জনসম্মতিহীন সরকারের জুলুম-পীড়ন, হামলা-মামলা, গুম-খুন, গ্রেপ্তার-মিথ্যাচার থেমে থাকেনি। সব ধরণের নিষ্ঠুর অনৈতিক ও অরাজনৈতিক পন্থায় তারা আমাদেরকে নির্মূল করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নিস্তরঙ্গ পরিবেশেও তারা দেশ-জাতির কল্যাণে কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি।

লুণ্ঠন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, সন্ত্রাস, উৎপীড়ন, ভিন্নমত দমন ও কুৎসা রটনাতেই তাদের অধিকাংশ সময় কেটেছে। তাদের নিত্যকার কথা ও কাজে বিএনপি, ২০ দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ফোবিয়া বা আতঙ্কই ফুটে উঠেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশবাসী দেখেছেন, সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া একটি মিথ্যা মামলায় স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাঁর গাড়িবহর ও সমবেত নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর আইন-শৃংখলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। সংবাদ-মাধ্যমে তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। তাদের কাউকে ধরা হয়নি। উল্টো মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী বীরবিক্রমসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজীপুরে বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশস্থলে ছাত্রলীগকে দিয়ে পাল্টা সমাবেশ ডাকিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে তাকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমন চরম উসকানিনির মুখেও পরম ধৈর্য্য ও সংযম বজায় রেখে বেগম খালেদা জিয়া একটি সমঝোতার উদ্দেশ্যে সংলাপের সূচনার ভিত্তি হিসেবে সাত দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন। কিন্তু ক্ষমতার মোহে অন্ধ বলদর্পী শাসকমহল সমঝোতা ও সংলাপের সকল সম্ভাবনা তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দেয়।

 

সুত্র: আরটিএনএন

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments