শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজেলারংপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ, শিশুসহ নিহত ৪, আহত ১৪

রংপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ, শিশুসহ নিহত ৪, আহত ১৪

রংপুরের মিঠাপুকুরের বাতাসন ফতেহপুর ঝাউলাদীঘি এলাকায় যাত্রীবাহী কোচে দুর্বৃত্তদের দেয়া পেট্রল বোমার আগুনে নিহত হয়েছেন এক শিশুসহ চার যাত্রী। তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক একটার দিকের এ ঘটনায় আরো ১৪ অগ্নিদদ্ধ যাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অবরোধের ৯ম দিনে এবং মহানগর ও জেলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের হরতালের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটায় পুরো জেলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক।
রংপুর পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে নতুন বার্তাকে জানান, দুর্বৃত্তরা রাত একটার দিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বাসে মিঠাপুকুরের রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাতাসন ফতেহপুর এলাকায় পৌঁছা মাত্রই গাড়িতে পেট্রল বোমা ছুড়ে দেয়।  এতে শিশুসহ চারজন অগ্নিদদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁরি ইনচার্জ এসআই নাজমুল হক জানান, মহাসড়কের মিঠাপুকুরের জায়গীরহাটের দক্ষিণপার্শে ফতেহপুর ঝাউলাদীঘি এলাকায় চিলমারী থেকে ছেড়ে আসা খলিল এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেটো-ব-১১-৬৮৬০) এ পেট্রোল বোমা ছুড়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।  এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই অগ্নিদদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
এছাড়াও আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং জানালা দিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন আরো ২০ জন। এদের মধ্যে ১২ জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে একজন সেনা সদস্যের স্ত্রীসহ তিনজনকে রংপুর সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে অগ্নিদগ্ধ বাসটি বর্তমানে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং স্টোরের পাশে রাখা হয়েছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত ইন্টাটি চিকিৎসক আমিমুল আহসান রাফি জানান, রাত দেড়টার দিকে বার্ন ইউনিটে সব চিকিৎসক অগ্নিদগ্ধদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেন। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে তছিরনের ৯০ ভাগ এবং আনজুমান আরার ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।
হাসপাতালের রেজিস্ট্রার থেকে পাওয়া তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে একই পরিবারের ১১ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাসদস্য নুর আলমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মেয়ে নুসরাত ও নাদিয়া, বোন তছিরন ও আলেয়া, নাতনী ফারজানা. ভাগনে বউ মিনারা ভাগনে আলআমিন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রাতেই সেনা সদস্যের স্ত্রী মনোয়ারা, মেয়ের নুসরাত ও নাদিয়াকে রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল লতিব জানান, ঘটনার পর অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধারে গ্রামবাসী ছুটে আসে। পুলিশের সহযোগী হিসেবে গ্রামবাসী কাজ করে। অনেককেই পাশের পুকুরে নামানো হয়। শিশুসহ মহিলা পুরুষের কান্নায় ওই এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
পুলিশের অভিযান
এদিকে ঘটনার পরপরই মহাসড়কের পাশে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এবং পূর্ব পাশ্বের গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে তুলে থানায় আটক করে নিয়ে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাতজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বের বাসা বাড়িতে পুলিশ দরজায় লাথি মেরেছে। এদিকে ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশেপাশে গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন নতুন বার্তাকে জানান, নিহতদের নাম এখনো পাওয়া যায় নি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কাউকেই হয়রানি করতে নয়, দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশ রাস্তার দুই পাশে তৎপর ছিল। সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments