চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশি বাড়াবাড়ির সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশি বাড়াবাড়ির সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, পেট্রোল বোমার জবাবে পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি বলেছে, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ভয়াবহ পেট্রোল বোমার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাতে অবস্থার যে ভয়াবহ অবনতি হয়েছে তা আরো বাড়বে।

 

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয় যে তিনি বলেছেন, ‘সরকারের প্রধান হিসেবে আমি (পুলিশকে) প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে যে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।’

 

অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় এবং মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের উন্মুক্ত আমন্ত্রণ হিসেবে দেখার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে যা  বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে পর্যবসিত হতে পারে। অতীতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

 

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে সম্প্রতি এক ডজনের বেশি লোক মারা গেছেন। ১২ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১০ জন মারা গেছেন।

 

আব্বাস ফয়েজ বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে এসব মৃত্যুর কিছু কিছু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা দরকার।  নিরাপত্তা বাহিনীর  দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আইনের ঊর্ধ্বে এবং এই অজুহাতে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।’

 

বিবৃতিতে বিএনপিকেও তাদের নেতাকর্মীদের সহিংস কমর্কাণ্ড থেকে নিবৃত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।