শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিসন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপির সঙ্গে কোন সংলাপ নয়: আওয়ামী লীগ

সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপির সঙ্গে কোন সংলাপ নয়: আওয়ামী লীগ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের সঙ্গে তুলনা করে দলটির সঙ্গে কোনো সংলাপ বা আলোচনায় যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে নাশকতায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংবাদ ব্রিফিং করে দলীয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধ কর্মসূচির ৩১ দিন পর এ নিয়ে এই প্রথম আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সাতটায় বৈঠক শুরু হয়ে তা রাত ১০টায় শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্য গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এরপর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় অবস্থান সম্পর্কে বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত পোষণ করেন। এরপর সাংগঠনিক অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়।

সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। আইএস মানুষ পুড়িয়ে মারছে। বিএনপি-জামায়াতও মানুষ পুড়িয়ে মারছে। তিনি সংলাপের বিপক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘অনেকেই টিভি টক শোতে আমাকে সংলাপের কথা বলেন। পুত্রশোক যাকে টলাতে পারল না, আমি তাকে সহানুভূতি জানাতে দেখতে গেলাম, আমাকে ঢুকতে দেওয়া হলো না। তিনি বলেন, ‘বিএনপির কার্যালয়ে একজন ভদ্রলোকও কি ছিলেন না, যে আমাকে ভেতরে নিয়ে তাদের কাছেই শোক জানাতে দিতে পারতেন?’

বৈঠক শেষে সৈয়দ আশরাফ সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারে, তাদের সঙ্গে সরকার কীভাবে আলোচনা করবে। আমরা বলছি, এসব ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার এজেন্ডা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচন নয়। দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র করা। এটা করতে দেওয়া হবে না।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘জর্ডানের পাইলটকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। এটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোরভাবে নাশকতাকারীদের দমন করবে। যেভাবেই হোক এদের সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।’ তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না পারলে দেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে আইএস জঙ্গি আসতে পারে।

এর আগে উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জীবন রক্ষায়, জনগণের নিরাপত্তায়, দেশের কল্যাণের জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটকে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে আর হরতাল-অবরোধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করবেন না। তাদের আতঙ্কগ্রস্ত করবেন না। তিনি বলেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সোচ্চার হতে হবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে দেশকে ধ্বংসের খেলায় লিপ্ত হয়েছেন বিএনপির নেত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের নাম ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন আগামী মার্চের মধ্যে বিভাগের সব জেলা সম্মেলন শেষ হবে বলে জানান। শেখ হাসিনা এপ্রিলের মধ্যে সারা দেশের জেলা সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেন।

উদ্বেগে নেতা-মন্ত্রীরা: এদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েক দিনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন নেতা ও মন্ত্রীর কথা হয়। তারা জানান, প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও সহিংসতা ও মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত থাকায় তাদের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগ আছে। দীর্ঘদিন দেশ এ রকম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে থাকতে পারে না। এ সংকট নিরসনে সরকারের কর্মকৌশলের বিষয়ে মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের বেশির ভাগই অনেকটা অন্ধকারে। সবকিছু প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর তিনজন নেতার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এক মাসেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কেবল শক্তি প্রয়োগের ওপর ভরসা করা যায় না। অন্য কী বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও ভাবতে হবে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর দুজন সদস্যের মতে, সংকট নিরসনে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক পদক্ষেপও বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু দলের বড় পদে থাকলেও কোথায় কী হচ্ছে, সে সম্পর্ক তারা কিছু জানেন না।

এক মাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতা কেবল গণমাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদসহ অনেকে নানা বক্তব্য দিলেও সংকট মোকাবিলায় স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় তারা কিছু বেফাঁস কথাও বলেছেন। তাদের কথায় দলের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি জনমনেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments