শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাকর্মচারীদের গালি দিলেন কুবি উপাচার্য, অপরাধ পদোন্নতির দাবি একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কর্মচারীদের গালি দিলেন কুবি উপাচার্য, অপরাধ পদোন্নতির দাবি একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীদের গালিগালাজ করলেন ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আশরাফ। রোববার ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীরা তাদের পদোন্নতির বিষয়ে কথা বলতে ভিসি অফিসে গেলে গালমন্দের শিকার হলেন তারা।

 

‘পলিটিক্স করতে আইছ, রাজনীতি করতে আইছ। চাঁদাবাজী কর, মাস্তানী করতে আইছ। পলিটিক্স ছুডাইয়া দিমু। ………(ভাষা প্রকাশে অযোগ্য গালিগালাজ)। কার কথায় এগুলো করতে আইছ। ঘাড় ভেঙ্গে দিব। বের হ বের হ আমার রুম থেকে।’ এভাবেই অকথ্য ভাষা গালমন্দ করেন ভিসি। এতে কোন কর্মচারী যেন প্রতিবাদ করতে সাহস না পায় এ জন্য এক কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

 
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীবৃন্দ পদোন্নতির বিষয়ে কথা বলতে ঐ দিন ভিসি অফিসে যান। ভিসি’র কক্ষে প্রবেশের সাথে সাথে ভিসি কোন কথা না শুনেই তাদের উপর চড়াও হন। উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে গাল মন্দ করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার আসন থেকে উঠে এসে তাদের ধাওয়া করেন এবং মারতে উদ্যোত হন। কর্মচারীরা  ভিসি অফিস থেকে বেরিয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান দুলাল চন্দ্র নন্দীর সাথে দেখা করে বিষয়টি জানান।

 
এ দিকে সোমবার এক কর্মচারীকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের পিয়ন আলমগীর হোসেনকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) অফিস ফাঁকি দিয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিসংখ্যান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সামনে উপাচার্যের কার্যালয় এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা মারার হুমকি প্রদান করেন।

 

সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) ১৯৮৫ সালের বিধিমালার বিধি ৩ (বি) এর মতে অসদাচরণ যোগ্য অপরাধের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ভিসির অসদাচারনের কথা কেউ কেউ স্বীকার করলেও একত্রিতভাবে স্বীকার করতে রাজি নন তারা। তবে না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, ‘আমরা ভিসি স্যারের কাছে আপগ্রেশনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন তিনি আমাদের সাথে এ ব্যবহার করলেন তা বোধগম্য নয়। তার কাছ থেকে এ রকম ব্যবহার অপ্রত্যাশিত।’ এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীরা পদোন্নতির বিষয়ে ভিসির সাথে কথা বললে জানুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে বলে তখন আস্বাস প্রদান করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার কর্মচারীরা ভিসির সাথে দেখা করতে যান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা সূত্রে জানা যায়, স্নাতক/সমমানের ডিগ্রীধারী ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীর চাকরি তিন বছর, এইচএসসি’র ক্ষেত্রে ৪ বছর এবং এসএসসি’র ক্ষেত্রে ৫ বছর পূর্ণ হলে পদোন্নতি (জাতীয় বতন স্কেল-২০০৯ এর গ্রেড-১৬) দেওয়া যাবে। অন্তত ২০ জন কর্মচারী রয়েছেন যাদের পদোন্নতি তিন/দুই/এক বছর আগে হওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

 

আলমগীর হোসেন চাকরি শুরু করেন ২০০৯ সালে ১৮ এপ্রিলে। তার চাকরির বয়স ৫ বছর অতিবাহিত হলেও তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারী মাসুদ সরকার ২০০৭ সালে ২০ জুন চাকরি শুরু করেন। ২০১১ সালে ১৯ জুন পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও তার পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। মাসুদ সরকারের মত অন্তত ২০ জন কর্মচারীর নীতিগতভাবে পদোন্নতি হওয়ার কথা থাকলে হচ্ছে না পদোন্নতি।

 
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments