রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলাযশোরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিএনপির ২ কর্মী নিহত

যশোরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিএনপির ২ কর্মী নিহত

যশোর মণিরামপুর উপজেলার বেগারিতলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্থানীয় বিএনপির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- আবু সাঈদ (৩৬) ও বজলুর রহমান (৩৮)। নিহতরা মণিরামপুরের জয়পুর গুপেরহাট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে যশোর-মনিণরামপুর সড়কের বেগারিতলা এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

 

তবে নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করে রাতে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

 

পুলিশ দাবি করেছে, বন্দুকযুদ্ধে তাদের চার সদস্যও আহত হয়েছেন। আর ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ানশুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, ৯টি হাতবোমা ও ১২টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যে, গোপন সংবাদে জামায়াতের কর্মী সাবু সাঈদ ও বজলুর রহমানকে জয়পুর গ্রাম থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাশকতা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।

 

এরপর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে মণিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা এলাকায় সাঈদ ও বজলুকে নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় তাদের সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এই বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে আবু সাঈদ ও বজলুর রহমান নিহত হন। আহত হন মণিরামপুর থানার এসআই তাসনিম ও তিন পুলিশ কনস্টেবল।

 

মনিরামপুরের সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেশমা শারমিন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর জামায়াতকর্মী আবু সাঈদ ও বজলুর রহমানকে নিয়ে অভিযানে গেলে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে পুলিশ তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে মণিরামপুর থানায় নিয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি ওয়ানশুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, ৯টি হাতবোমা ও ১২টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করে। নিহত দুজনের বিরুদ্ধে জয়পুরে গ্রামে তাণ্ডব, অগ্নিসংযোগ মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে বলে জানান রেশমা শারমিন।

 

এদিকে, পুলিশ দাবি করেছে- নিহত দুজনই জামায়াত-শিবিরের কর্মী। তবে এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্র জানায়, তারা দুজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনও বলেছেন, নিহত দুইজন বিএনপির কর্মী।

 

নিহত বজলুর ভাই রবিউল ইসলাম জানান, নিহত দুজন বিএনপিকর্মী ছিলেন। তার ভাই বজলুর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। দুই মামলাতেই তিনি জামিনে ছিলেন।

 

মণিরামপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল বলেন, ‘নিহত দুজনই বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পর জয়পুর গ্রামে সহিংসতা হয়। সে সময়ে করা গণমামলার আসামি ছিলেন তারা।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments