রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছবেন মমতা, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ নিবিড় বন্ধনের আশার আলো!

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছবেন পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সফরের আগে বাংলাদেশের সমস্ত ভাইবোন ও সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই বাংলাদেশ সফর ঘিরে দুই বাংলার মানুষের কাছে বাড়ছে আশা প্রত্যাশা।

 

একদিকে যেমন মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঢাকা-কলকাতার মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে যেমন দৃঢ় করবে, তেমনি জাতীয় স্তরে তিস্তা ও ছিটমহলের মতো দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যারও একটা সমাধানের রাস্তা দেবে।

 

সূত্রের খবর, মমতার এই সফরের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বুকে বাংলাদেশী পর্যটকদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হতে পারে। একইসঙ্গে দুই বাংলার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে নৌপথে কলকাতা-ঢাকা রুট চালু করার কার্যকরি সিদ্ধান্তও নেয়া হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বর্ষার মরসুমে যাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে আনা যায় সে ব্যাপারেও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরসঙ্গী হওয়া বিভিন্ন মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে মূলত বন্ধুত্বের বার্তা নিয়েই মমতার এই সফর।

মমতা সরকারের অত্যান্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী অত্যান্ত বাস্তববাদী মানুষ। নিশ্চয়ই আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

 

মমতার সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার আগে তার সফরসঙ্গী অনেকেই মনে করছেন, দুই বাংলার মানুষ ভাই-বোনের মতো। একই ভাষা একই খাবার একই পোশাক একই আবহাওয়ায় মানুষ সবাই। তাই দুই বাংলার মধ্যে প্রাণের সম্পর্ক যাতে আরো নিবিড় হয় সেই চেষ্টাই প্রত্যেকে করবেন।

 

মনে করা হচ্ছে, দুই বাংলার মধ্যে পারস্পরিক নানা আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনিয়োগকারিদের কলকাতা বিনিয়োগের আহবান জানাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চেয়ার প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথাও বলতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ওই চেয়ার প্রতিষ্ঠার দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে কলকাতা আসার অনুরোধও জানাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার রাতে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু ছাড়াও সাংসদ ও অভিনেত্রী মুনমুন সেন, দিপক অধিকারী (দেব), চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, কবি নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী, সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতা, ইন্দ্রনীল সেনসহ প্রমুখরা সঙ্গি হচ্ছেন। তবে শেষ বেলায় গায়ক কবির সুমন এই সফরের সঙ্গী হচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০১১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ততকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সফরসঙ্গী হয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্ত সেই সফরের প্রায় শেষ লগ্নে এসে তিস্তা চুক্তি নিযে নিজের অবস্থান বদলে সফর বাতিল করেন মমতা। ফলে তিস্তুা ও ছিটমহল নিয়ে প্রটোকল চুক্তির বাস্তবায়ন করা সম্ভভ হয়নি কংগ্রেস সরকারে।

২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বশেষ ঢাকা সফর করেছিলেন। প্রায় ১২ বছর পর ফের মমতা ঢাকা যাচ্ছেন। তাই স্বভাবতই তার সফর ঘিরে প্রত্যাশায় আশার আলো দেখছেন দুই বাংলার সাধারন মানুষ।

এদিকে এই সফরের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তি আন্দোলনকামী সব মানুষকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতেই বাংলাদেশ যাচ্ছি। এই সফর দুই বাংলার মানবিক, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধন এবং সমস্ত আদানপ্রদানকে আরো মজবুত করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।