শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাকুবি'তে এ বছরও অসম্পূর্ণ শহিদ মিনারে পালিত হবে ভাষা দিবস..!

কুবি’তে এ বছরও অসম্পূর্ণ শহিদ মিনারে পালিত হবে ভাষা দিবস..!

৫২’র ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। মাতৃভাষার প্রতি এদেশের মানুষের ভালাবাসা বিশ্ববাসীকে নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা শেখায়। ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন মাধ্যমে ভাষা শহীদের স্বরণ করবে জাতি। দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে বছরের পর বছর ধরে ‘আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন করা হয় নির্মানাধীন শহিদ মিনারে। এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পরও পূর্ণাঙ্গ একটি শহিদ মিনার তৈরী করা সম্ভব হয়নি। নির্মান কাজ শুরুর তিন বছর পরও অসম্পূর্ণ রয়েছে শহিদ মিনার। এই অসম্পূর্ণ শহিদ মিনারেই এ বছর ভাষা দিবস পালন করবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। তিন বছরেও কেন শহিদ মিনারের কাজ শেষ হলো না এমন প্রশ্নে অর্থ সংকটের কথা জানালো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সরজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ দিকে একটি টিলার উপরে নির্মানাধীন শহিদ মিনার। শহিদ মিনারের মূল বেধীতে দুটি স্তম্ভ নির্মান করা হয়েছে। স্তম্ভ দুটির কাজও শেষ হয়নি। জানা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে এ নির্মানাধীন শহিদ মিনারের স্তম্ভে কালো কাপড় পেঁচিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শহিদ মিনার নির্মানে ধীর গতি এবং খন্ড খন্ড কাজ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন বলেন, ‘শহিদ মিনার আমাদের অস্তিত্বের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ সংকট রয়েছে, তবে সব কাজের মধ্যে এ কাজ আগেই সম্পূর্ণ করার দরকার ছিল। ’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শহিদ মিনার নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ নয় বছরেও একটি সুন্দর শহিদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তাদের। ২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পাশে টিলার উপর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী প্রস্তাবিত শহিদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ঐ স্থানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নান্দনিক নকশা তৈরি করেছিলেন প্রখ্যাত চিত্র শিল্পী অধ্যাপক ড. হাসেম খান। পরবর্তিতে দুই বার উপাচার্য পরিবর্তনের ফলে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে শহিদ মিনার। শহিদ মিনারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৩য় দফা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমীর হোসেন খান ২০১১ সালে শহিদ মিনারের স্থান পরিবর্তন করেন বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের পাশের পাহাড়ে। অর্থ সংকট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাবে মুখথুবড়ে পড়ে শহিদ মিনার নির্মাণ কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২০১২ সালেন ১ জানুয়ারি শুরু করা হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নির্মান কাজ। প্রযেক্ট না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ অর্থায়নে শুরু করা হয় শহিদ মিনার নির্মানের কাজ। তখন শহিদ মিনার নির্মানে সম্ভাব্য ব্যায় ধরা হয় ৭০ লক্ষ টাকা। একই বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে কাজ বন্ধ করে দেয় শহিদ মিনার নির্মানে টেন্ডার পাওয়া আর কে ইন্টারন্যাশনাল নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঐ বছর টানা স্থগিত থাকার পর ২০১৩ সালে কিছু দিন চলে নির্মান কাজ। এ পর্যন্ত প্রায় দশ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে। ২০১৩ সালের কয়েক মাস এবং গত বছরের পুরোটা সময় নির্মান কাজ বন্ধ ছিল। দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাকে যথাক্রমে ৪৫লক্ষ ও ২০ লক্ষ টাকা কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়। তাদেরকে ২৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে বলা হয়। খরচের দিক থেকে বিবেচনা করলে শহিদ মিনারের নির্মানের এখনও ৮০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে বলে প্রকৌশল দপ্তর। শহদি মিনারের বেধী, মাটি কাটা, সৌন্দর্য বর্ধণ, সংলগ্ন রাস্তা নির্মানসহ বাকি রয়েছে অনেক কাজ। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম বলেন, ‘ভাবতেই পারি না যে, নির্মান শুরুর তিন বছর পরও শহিদ মিনার অসম্পূর্ণ। এতে আমরা লজ্জ্বিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আশরাফ বলেন, ‘শহিদ মিনার নির্মানের জন্য দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।’ সুন্দর একটি শহিদ মিনার নির্মান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments