শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজেলাবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়ের ছেলে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়ের ছেলে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যাকে কুপিয়ে আহত করে কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক অভিজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় এক দশক আগে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একইভাবে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন লেখক হুমায়ুন আজাদ। আর গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি খুন হলেন অভিজিৎ রায়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে একই কায়দায় খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাফিদা আহমেদ বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে একুশে বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথে ফুটপাতে চা-পানের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত পৌনে নয়টার দিকে যুবক বয়সের দুই দুর্বৃত্ত অতর্কিতে চাপাতি দিয়ে পেছন থেকে অভিজিৎকে কোপাতে থাকে। এ সময় তার স্ত্রী তাকে রক্ষা করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কোপ দেয়। এরপর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে কয়েকজন ফটোসাংবাদিক রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল আহমেদ জানান, মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ (৪২) মারা যান। রাফিদার (৩৫) মাথায় চাপাতির চারটি আঘাত লেগেছে। তার বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। অভিজিৎ ‘মুক্তমনা’ ব্লগের সম্পাদক ও লেখক। ‘কুসংস্কার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে’ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে জাহানারা ইমাম পদক পায় মুক্তমনা। তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে। রাফিদা আহমেদ লেখালেখি করেন বন্যা আহমেদ নামে।

অভিজিৎ রায়ের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাসের দর্শন, ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’, ‘মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে’, ‘ভালবাসা কারে কয়’, স্বতন্ত্র ভাবনা : মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি, সমকামিতা : বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান।

অভিজিতের ছোট ভাই অনুজিৎ রায় বলেন, অভিজিৎ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করার পর সেখানে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। আট বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার প্রকৌশলী তিনি। ২০০৮ সালে তিনি রাফিদাকে বিয়ে করেন।

এ বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফেরেন। আগামী মাসে স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা। দুই ভাইয়ের মধ্যে অভিজিৎ বড়।

অভিজিতের কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, লেখালেখি করার কারণে তাকে বিভিন্ন সময় ব্লগ ও ফেসবুকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে শফিউর রহমান ফারাবী নামে এক ব্যক্তিও রয়েছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিজিৎ প্রতিদিন বইমেলায় যেতেন বলে তার ভাই ও বন্ধুরা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments