শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeকক্সবাজারমহেশখালী’র চ্যানেল গুলোতে বিহিঙ্গি ও চরজালের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন অব্যাহত

মহেশখালী’র চ্যানেল গুলোতে বিহিঙ্গি ও চরজালের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন অব্যাহত

সরকারী বিধি নিষেধ না মেনে মহেশখারীর চ্যানেল গুলোতে বিহিঙ্গি ও চর জােেলর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন অব্যাহত রয়েছে।  সামুদ্রিক মৎস্য আইন ১৯৮৩ ’র ১৪ ধারায় বিহিঙ্গি  জালের ফাদঁ এর আকার ছিল সর্বনিম্ন ৩০ মিঃমিঃ। ২০০৪ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে এই ফাঁদের আকার  নির্ধারন করা হয় সর্বনিম্ন ৪৫ মিঃ মিঃ। এই নিয়ম করা হলেও উক্ত আইন বাস্তবায়নে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই বলেই বর্তমানে বিহিঙ্গি জাল, চরজালের ফাঁদের আকার মাত্র ৩-৪ মিঃ মিঃ রয়ে গেছে। শুধুমাত্র গভীর সাগরের বিহিঙ্গি জালের ফাঁদ সর্বোচ্চ ৩০ মিঃমিঃ পর্যন্ত দেখা গেছে। মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ মাটির সাথে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত চরজালের দৈর্ঘ্য ৫ শ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ মিঃ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভাটার সর্বনিম্ন সীমায় শত শত খুঁটির সাহায্যে ৮-১২ ফুট উচ্চতার এই জাল অনেকটা ক্রিসেন্ট আকৃতির করে জালের নিম্ন প্রান্তে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। জালের মাঝ বরাবর ৩-৪ মিঃ মিঃ ফাঁদের একটি থলে যুক্ত করে দেয়া হয়। পুঁতে রাখা চরজাল থেকে সর্বোচ্চ ২ কিঃ মিঃ ভিতরে পর্যন্ত জোয়ার হয়। সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় বোটের সাহায্যে গিয়ে জালের উপরের প্রান্ত খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। ভাটার সময় ছোট-বড় সব ধরণের মাছ এবং পোনা আর সাগরে ফিরে যেতে পারেনা। জাল এবং ফাঁদে এ আটকা পড়ে। এভাবে প্রতিদিন ২ বার সামুদ্রিক মৎস্য প্রজাতি ধ্বংস করা হচ্ছে।

 

অপরদিকে প্রতি বছর সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়া মৌসুমে ডিম পাড়তে এসে ফিরে যাওয়ার সময় চর জাল ও বিহিন্দী জালে আটকা পড়ে ব্যাপক হারে সামুদ্রিক কাছিমের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে এভাবে প্রতিদিন ১২ হাজার মোহনার বিহিন্দী জাল এবং ৫ হাজার সাগর বিহিন্দী জাল দিয়ে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। কিন্তু মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ চর জালের কোন পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় মহেশখালী মৎস্য অফিসে নেই। অথচ মহেশখালী উপকূলে বহু সংখ্যক চরজাল পাতা হয়েছে। বিশেষ করে চরপাড়া সী বিচ এলাকা ও জেটি সংলগ্ন এলাকায়। এদিকে ইঞ্জিন চালিত বোটে করে ৩-৪ মিঃমিঃ ফাঁদের কুমজাল দিয়ে ব্যাপক হারে অপরিণত পোনা মাছ আহরণ করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় মৎস্য অফিস কর্তৃক এসব বোটের ফিশিং সরঞ্জাম যাচাই বাছাই না করে ফিশিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে- অনেকেই এরকম অভিযোগ করছে স্থানীয় মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেটে ধ্বংস করায় বিভিন্ন প্রকার মৎস্য প্রজাতির ক্ষুদ্র পোনা এবং অপরিণত মাছের আবাস ভূমি ধ্বংস করায় বঙ্গোপসাগরে আশংকা জনক হারে মৎস্য সম্পদ হ্রাস পেয়েছে। তবুও নবায়ন যোগ্য সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সুষ্ঠুভাবে বিজ্ঞান ভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রায় আহরণ করা হচ্ছেনা। উপকূলের কাছাকাছি অগভীর সমুদ্র থেকে অপরিকল্পিতভাবে অপরিণত পোনা মাছে বিচরণ ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন অবৈধ চরজাল, বিহিন্দী জাল ও কুমজাল দিয়া নির্বিচারে অতিমাত্রায় অসংখ্য প্রজাতির অপরিণত পোনা মাছ আহরণ করে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে যাচ্ছে।

 

জেলেরা জানান, ২০-৩০ বছর আগে যখন আমরা সাগরে বোট নিয়ে মাছ ধরতে যেতাম তখন জালের প্রস্ত ছিল মাত্র ০৮-১০ হাত এবং প্রতিদিন সাগর থেকে ফিশিং করে কূলে চলে আসতাম। তখন বরফ ও ছিলনা, এখন বরফ নিয়ে সাগরে ১০-১৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরতে যায়। জালের প্রস্ত ও ৪০-৮০ হাত। অর্থাৎ সেই সময় সাগরের উপরের মাছ ধরা হতো। এখন সাগরের তল দেশ থেকে ও মাছ তুলে আনা হচ্ছে। সুত্রে জানাযায়, জালের ফাঁদ ৬০ মিঃ মিঃ পর্যন্ত বাড়ালে অধিকাংশ পোনা মাছ ছাড়া পায় এবং আহরিত মাছের পরিমাণ মোট আহরণের প্রায় ৪৩%। বিহিন্দী জালের ফাঁদ ৪৫ মিঃ মিঃ বাস্তবায়ন করতে পারলে ক্ষয় ক্ষতি অনেকাংশে কমে যেত। সম্প্রতি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কক্সবাজার কর্তৃক মৎস্য গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ মিঃ মিঃ থেকে ৬০ মিঃ মিঃ করা হলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অনেক অপরিণত পোনা মাছ বেঁচে যায় এবং এটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উত্তম হতো। সর্বোপুরি অবৈধ জালের ছোবলে পড়ে মৌসুমী কাশিম মারা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ারুল নাসের বলেন, অবৈধ চরজাল  ও বিহিন্দী জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ  ব্যবস্থা গ্রহন করা  হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments