শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
spot_img
HomeUncategorizedকামারুজ্জামানের সাথে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ সকাল ১১টায়

কামারুজ্জামানের সাথে আইনজীবীদের সাক্ষাৎ সকাল ১১টায়

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে তার আইনজীবীরা দেখা করতে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কামারুজ্জামানের সঙ্গে তার আইনজীবীদের এই সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মো. মুনির বলেন, ‘আমাদের আবেদন কারা কর্তৃপক্ষ মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রায় শোনার পর তিনি (কামারুজ্জামান) রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা তা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য আগেই বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামীর মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছিলেন।’

 

শিশির মুনির বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় (বুধবার) কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানকে ফাঁসির রায় পড়ে শোনান। তিনি তাদের কাছে সময় আবেদন করেন। পরে আমরা সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে সেটি মঞ্জুর করে কারা কর্তৃপক্ষ।’

 

জানা গেছে, শিশির মো. মুনির ছাড়াও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মশিউল আলম ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে এই সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন।

 

এদিকে, বুধবার দুপুরে ৩৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চের চার সদস্য। বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

 

এরপর বিকেলে হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করেন। ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রায়ের অনুলিপি সন্ধ্যা পাঁচটা ৫২ মিনিটে একটি মাইক্রোবাসে করে কারাগারে নিয়ে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবউজ্জামানসহ পাঁচ কর্মকর্তা।

 

সেখানে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলীর কাছে রায়ের অনুলিপি হস্তান্তর করেন আফতাবউজ্জামান। একই সময়ে রায়ের একটি করে কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রট), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছে পাঠানো হয়।

 

পরে কারা কর্তৃপক্ষ জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে রায়টি পড়ে শোনান এবং তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। তখন কামারুজ্জামান আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

 

বিধি অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার পর কারাগার কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজ শুরু করে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার যাবতীয় প্রস্তুতি গত সোমবারেই নিয়ে রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ওইদিন সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

 

২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ গত বছরের ৩ নভেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

 

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায়। ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় কামারুজ্জামানের পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়।

 

২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী সাতটি অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে ২০১২ সালের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুটিতে মৃত্যুদণ্ড, দুটিতে যাবজ্জীবন ও একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments