মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
spot_img
Homeউপজেলানানাবিধ প্রতিকুলতা নিয়ে বসবাস করছে চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের হাজারো মানুষ

নানাবিধ প্রতিকুলতা নিয়ে বসবাস করছে চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের হাজারো মানুষ

দ্বীপ জেলা ভোলার সর্ব দক্ষিনে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিন আইচা থানার অন্তর্গত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের হাজারো মানুষ নানাবিধ প্রতিকুলতা নিয়ে বসবাস করছে। না যায, প্রায় ৮০ বছর আগে জেগে উঠা ঢালচরের মোট আয়তন ৩০.৩১ বর্গকিলোমিটার। এই দ্বীপে নানা সমস্যাকে নিত্য সঙ্গী করে হাজারো মানুষ এখন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

 

দুর্গম এই চরে স্যানিটেশন, শিক্ষা ব্যবস্থ্যা, নদী ভাঙ্গন থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যা লেগেই রয়েছে। এখানে জীবন ধারনের জন্য নেই কোন সুযোগ সুবিধা নেই কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। শিশু থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের দিণ রাত কাটে সাগর ও নদীতে মাছ ধরে। আবার কেউ-কেউ অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

 

এ জনপদে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে ৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ টি দাখিল মাদ্রাসা ও ১ টি কওমী মাদ্রাসা থাকলেও শিক্ষার মান একেবারে নগন্য হয়ে পড়েছে। ম্যনেজিং কমিটির উদাসীনতা ও অভিভাবকদের অসচেতনতার ফলে বহু শিক্ষার্থী অকালে ঝড়ে পরেছে। আবার ছাত্রীদের মধ্যে কেউবা পড়ছে বাল্য বিবাহের কবলে।

চর কচ্ছপিয়া থেকে এ চরে, যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র সার্ভিস রয়েছে। তাও আবার ঝুকিপূর্ন। এই চরে নেই কোন রিক্সা, নেই কোন যানবাহন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষ জীবনের ঝঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় উপজেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারনে এ অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী শশীভূষণ, চরফ্যাশন, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। এ অঞ্চলে নেই কোন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। যার ফলে শিশুরা ডায়রিয়া ও পুষ্টিহিনতা সহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকার কারনে স্থানীয় ওঝা, কবিরাজ কিংবা হাতুরে ডাক্তারদের সরনাপন্ন হতে হচ্ছে।

এ অঞ্চলে ১ টি মাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আমরা আবার নতুন করে ঘর ভাড়া করে চর বাসীর জন্য আমাদের সাধ্যানুযায়ী চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

এই চরে আশ্রয়ের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। নেই কোন বেড়ি বাধ। তাই প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গন, বন্যা, জলোচ্ছাস, সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে এ অঞ্চলের মানুষের  বেঁচে থাকতে হয়ে। এখানে ১ টি আশ্রয় কেন্দ্র ও আরেকটি সি,পি,পি সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রটি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এখন আশ্রয়কেন্দ্রটিরই আশ্রয়ের জন্য বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাও আবার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে।

ভোলা কলেজে মাষ্টার্স পড়–য়া ছাত্র মোতাছিন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াছ জানান, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের আশ্রয়ের জন্য অন্য ঘরে গিয়ে বা উচুঁ কোন যায়গায় আশ্রয় নিতে হয়। এই চরে নেই তেমন কোন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। গুটি কয়েক মাত্র টিউবওয়েল থাকলেও কেউ-কেউ বা কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পানি আনতে হয়।

 

আবার কয়েক বাড়ী মিলে এনজিওর কাছ থেকে চওড়া দামে টিউবওয়েল ক্রয় করে নিতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই বললেই চলে। প্রতিনিয়ত মেঘনার ভাঙ্গনের ভয়াল থাবায় পরে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকেই। এ রকম বহুবিধ সমস্যা নিয়ে বেচেঁ আছে এ অঞ্চলের মানুষ। তাই এই সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এ অঞ্চলের হাজারো মানুষ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments