রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeউপজেলাচাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে কামারুজ্জামানের গায়েবানা জানাজা ॥ হাজারো মানুষের ঢল

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে কামারুজ্জামানের গায়েবানা জানাজা ॥ হাজারো মানুষের ঢল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের পর গতকাল চাঁদপুর শহর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে  গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।

 

এ গায়েবানা জানাজায় দল, মত নির্বিশেষে উপস্থিতি ছিল হাজারো জনতা। উপজেলা প্রতিনিধিদের তথ্যমতে এবং জামায়াত সূত্রে জানাগেছে- জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের পর গতকাল ১২ এপ্রিল গোটা জেলার চাঁদপুর শহর, চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ,  শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, কচুয়া উপজেলা সদর এবং ইউনিয়ন সহ কমপক্ষে শতাধিক স্থানে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেক স্থানেই জানাজা নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 
গতকার শনিবার সকালে চাঁদপুর শহর জামায়াতের উদ্যোগে শহর জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশনেন জামায়াত-শিবিরের শহর, সদর, এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সহ  বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ছাড়াও সাধারণ মানুষ। গায়েবানা জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর এবং সরকারি ষড়যন্ত্রের  প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতারা।

 
বক্তারা বলেন- সরকার দেশে ইসলামী নেতৃত্ব শেষ করে দেওয়ার লক্ষ্যে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেয়া ন্যায়ভ্রষ্ট ফাঁসির রায় কার্যকর করেছে। বক্তারা বর্ষীয়ান এ নেতার ফাঁসির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মো: কামারুজ্জামান সম্পূর্ণ নির্দোষ। যে অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার তাকে মৃত্যদন্ড দিয়েছে, সেগুলো ভুয়া, অসত্য এবং সরকার কর্তৃক কল্পিত উপন্যাস মাত্র। কামারুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন ১৮ বছরের ছাত্র ছিলেন।

 

এ বয়সে একজন ছাত্র রাজাকারের কমান্ডার ছিল এটা র্নিলজ্জ্ব মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই না।  বিচারে যে সোহাগপুরের কথা বলা হয়েছে, তিনি (কামারুজ্জামান) স্বাধীনতার যুদ্ধের পর্বে কখনও সে গ্রামে যাননি এবং চিনেনও না। একটা কল্পকাহিনী তৈরী করে সরকার ইসলামি নেতৃত্ব ধবংস করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থে জাতীয় এ নেতাকে হত্যা করেছে।

 

তারা বলেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসিতে ‘সমগ্র জাতি শোকাহত’। তিনি ইসলামী আন্দোলনে বড় নেতাই নন বরং একজন বড় মাপের দেশ প্রেমিক ও বুদ্ধিজীবি ছিলেন। বক্তারা বলেন, কামারুজ্জামান মৃত্যুহীন প্রাণ। তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদশর্ক।

 

যতদিন ইসলামী আন্দোলন থাকবে, ততদিন জাতি শ্রদ্ধার সাথে তাকে স্মরণ করবে। কামারুজ্জামানের বিচারিক এ হত্যাকে শাহাদাতের মর্যাদায় স্থান দেয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বক্তারা আরো বলেন, জাতি একদিন এ প্রতিহিংসামুলক হত্যাকান্ডের বিচার করবেই। মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রক্ত বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিকট অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার রক্ত বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।
বক্তারা আরো বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করেছে এবং ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে ইতিহাস কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। এই জালিম সরকারকে বিচারের নামে অবিচারের এবং পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ডের জন্য জনতার আদালতে একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments