রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeউপজেলাপরিদর্শনে এসে মন্ত্রনালয়ের প্রকৈাশলীদের অসন্তোষ রায়পুর-খাসেরহাট সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম

পরিদর্শনে এসে মন্ত্রনালয়ের প্রকৈাশলীদের অসন্তোষ রায়পুর-খাসেরহাট সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম

বিটুমিন কম, ফিটনেস ও মেকাডম সঠিক না দেয়া সহ নানা অনিয়মে চলছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সড়ক সংস্কারের কাজ। উপজেলা এলজিইডি’র তত্বাবধানে গত তিন মাস আগে সোনাপুর ইউনিয়নের পাটওয়ারী রাস্তার মাথা থেকে ২নং উত্তর  চরবংশী ইউনিয়নের স্টীল ব্রীজ বিশ্বাসের বাড়ী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক ৮০ লাখ ব্যায়ে সড়ক সংস্কারের কাজ করছেন মেসার্স আলী হায়দার এন্ড সন্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 
সড়কে চলাচলকারী সচেতন যাত্রীরা অনিয়মের বিষয়ে সংস্লিস্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়ায় ঐ মন্ত্রনালয় সহ উপজেলা এলাজিইডি’র ৬জন প্রকৈাশলী সরজমিনে রোববার ও সোমবার ওই সড়ক সংস্কার কাজে পরিদর্শনে এসে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ রাখা অথবা ভাল করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে যান।

 
অনুসন্ধানে জানাযায়, সোনাপুর ইউনিয়নের পাটওয়ারী রাস্তার মাথা থেকে ২নং উত্তর  চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার খানাখন্দ সড়ক দিয়ে ৫ বছরেরও বেশি সময় লক্ষাধিক যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা দুর্ঘটনার স্বিকার হয়েছেন।

 

সড়কটির সংস্কারের দাবীতে উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার ও ব্যাংকার জাকির হোসেন সহ এলাকাবাসীর সোচ্চার ভুমিকা পালনের পর অবশেষে তিন মাস আগে রায়পুরের মেসার্স আলী হায়দার এন্ড সন্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু করে।

 
উপজেলা এলজিইডি বিভাগ জানায়, দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও ব্যাংকার জাকির হোসেন সহ এলাবাসী চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চার মাস আগে ৮০লাখ টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুরের এলজিইডি কার্যালয়ের টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫ মাসের মধ্যে এই সড়কটি মেরামত ও সংস্কার করে দেয়ার চুক্তি হয়।

 

তবে কাজের শুরুতে ধির গতির অভিযোগ সহ খোড়াখুড়িতে অনেকটা সময় অতিবাহিত করার পর এখন তাড়াহুড়োতে নিন্মমানের সামগ্রীসহ রোলারের ভাংগা চাকা দিয়ে বিটুমিন, ফিটনেস ও মেকাডম সঠিক না দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে সংস্কার কাজ। এলজিইডি’র উপসহকারি প্রকৈাশলি সহ কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মিত মনিটরিং করে থাকলেও তারা কিছুই বলতে সাহস পাচ্ছেনা ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায়।

 
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যাংকার জাকির হোসেন, শিক্ষক ফিরোজ আলম , চালক শহিদ ও আলম সহ কয়েক পথচারী খোব প্রকাশ করে বলেন প্রায় ৭ বছর ধরে অতি কষ্টে সড়কটি দিয়ে চলাচল করেছি সড়কটি সংস্কারের জন্য সংস্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে চেষ্টা করেছি। আশা ছিল সড়কটি ভালভাবে সংস্কার হলে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। এখন দেখছি সংস্কারে যে অনিয়ম চলছে তা কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই আগের মতই খানাখন্দে ভরে যাবে।

 
বিষয়টি নিয়ে মেসার্স আলী হায়দার এন্ড সন্সের ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন জানান, রোলারের চাকাটি খারাপের বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার দিখবেন। এ সড়কটির সংস্কার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি বলে দাবী করেন।  এবং  আপনি চার-পাঁচটি সড়ক নিয়ে ভাল করে লিখেন কিছুই হবেনা।

 
উপজেলা এলজিইডি প্রকৈাশলী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া জানান, মন্ত্রনালায়ের তিন প্রকৈাশলীসহ আমরা ৬জন ওই সড়কটি পরিদর্শন করে কিছুটা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সড়কটির সংস্কার কাজ বহুল প্রতিক্ষিত। এতে কোন ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবেনা। স্থায়ী অবকাঠামো এবং ফাইনাল কার্পেটিংয়ে কোথাও এ ধরনের পুরোনো মালামাল ব্যবহার করতে পারবেনা  ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ভালভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments