আওয়ামী লীগের হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন খালেদা জিয়া

রাজধানী ঢাকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে ও  তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। হামলার সময় ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কয়েকজন নেতাকর্মী একেবারে খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছে যান।

 

কয়েক যুবক তাকে লক্ষ্য করে গাড়ির গ্লাসে আঘাত করেন। তবে গাড়ি চলতে থাকায় আঘাতটি খালেদা জিয়ার আসনের পেছনের সারির গ্লাসে লাগে। এদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যখন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার একপর্যায়ে তার গাড়িতেও হামলা করেন, তখন ওইসব নেতাকর্মী এবং খালেদার মাঝামাঝি কোনো নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন না।

 

এতে করে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা টিম-সিএসএফের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য হামলাকারীরা কয়েকজন সিএসএফ সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়েছে। এদের মধ্যে এক সিএসএফ সদস্যকে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক করে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

 

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় বের হওয়া খালেদা জিয়ার গাড়িবহর রাজধানীর বাংলামোটরে বুধবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে যানজটের কবলে পড়ে। এ সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে হামলা চালায়।

 

জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মশিউর রহমান রুবেল ও মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালায়। তাদের কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় থাকা একাধিক সিএসএফ সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণও করা হয়েছে। গাড়িতে এ ধরনের চিহ্ন থাকলেও তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

হামলার পর খালেদা জিয়াকে নিয়ে গাড়িবহন সরাসরি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যায়। সেখানে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসভবনে ফেরেন তিনি।

 

গত শনি, রবি, সোম ও মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনগণের কাছে গিয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য ভোট চান খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মধ্যে প্রার্থীর মার্কা ও ছবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।

 

এর মধ্যে রবিবার উত্তরায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তাদের বাধাকে উপেক্ষা করে তিনি প্রচারণা চালান। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বাস প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন খালেদা জিয়া।

 

হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩২৬১২) গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়া তার নিরাপত্তা টিম-সিএসএফের চারটি গাড়িসহ অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় চার সিএসএফ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

 

সর্বশেষ মঙ্গলবার রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের মগ প্রতীকের প্রচারণায় গিয়ে হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।