শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিইসির সময়সীমা অপেক্ষা করেও ভোট চাইলেন সুরঞ্জিত

ইসির সময়সীমা অপেক্ষা করেও ভোট চাইলেন সুরঞ্জিত

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময় রবিবার মধ্যরাতে ভোট চাওয়ার সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর ‘ইলিশ মাছ’ ও ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।

 

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এই ভোট চান। সভায় উপস্থিত লোকদের উদ্দেশে সুরঞ্জিত বলেন, ‘কালকেই (মঙ্গলবার) তো নির্বাচন, আমরা ভোট দিতে যাব। কী আপনারা ভোট দিতে যাবেন তো উত্তরে বা দক্ষিণে? কিসে ভোট দিবেন?’

 

এ সময় সবাই ইলিশ এবং টেবিল ঘড়ি’র কথা বলে সাড়া দেন। তিনিও তাতে সম্মতি জানিয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করার কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘যখন আপনি নিজের ছেলের জন্য চোখের পানি ফেলেন, তখন আমারও মায়া হয়। কারণ আমিও মানুষ। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে যাদের পুড়িয়ে মেরেছেন, তাদেরও মা আছে। তাদের জন্য কি একবারও পানি ফেলেছেন?’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন রাজনীতি করছি। এই রাজনীতিতে জঘণ্য মিথ্যাচার শুরু করেছেন খালেদা জিয়া নিজেই। তিনি নিজেই হরতাল দিয়েছেন। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছেন। এখন আবার ২০ দলকে জড়াচ্ছেন এই দায়ের সঙ্গে।’ আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপির মত একটি দলকে জঙ্গিবাদী দলে পরিণত করে ১২টা বাজিয়েছেন খালেদা জিয়া।

 

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিভাবে খালেদা জিয়া একটি মানুষকে গাড়ির নিচে চাপা দিচ্ছেন, গতকাল (রবিবার) প্রধানমন্ত্রী তার একটি ছবি দেখিয়েছেন। আজ বিভিন্ন পত্রিকায় সেটা ছাপা হয়েছে। এভাবে যদি গাড়ির নিচে মানুষকে চাপা দেয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবে না?’

 

সুরঞ্জিত বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন হচ্ছিল, সেখানে তিনিই (খালেদা জিয়া) প্রথম বিশৃঙ্খলা করেছেন। তিনি উত্তরে গিয়ে কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এখন তার প্রার্থী বললেন- ভিক্ষার দরকার নাই, কুত্তা সামলান।’ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামছে।

 

সেনাবাহিনী নামানোর দাবি বিএনপির ছিল। তা নামানো হয়েছে। আবার বলে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়া দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই ক্ষমতা এরশাদ দিয়েছিল। পরে যখন এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়, তখন ওটা আবার বাতিল করা হয়। তখন খালেদা জিয়াও ছিলেন।’

 

খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘যে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আপনি নিজেই নিয়ে গেছেন, তা আবার এই স্থানীয় নির্বাচনে কেন? উনার অবস্থা এমন গোসল করবে কিন্তু বেনী ভিজাবে না। ভাত খাবে কিন্তু হাত লাগাবে না।’

 

তিনি বলেন, ‘গতকাল খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন দেখে মনে হয়েছে, যুদ্ধের আগেই তিনি সাদা নিশান উড়িয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচন নীরবে হবে কেন? নির্বাচন তো হয় উৎসব মুখর পরিবেশে।’

 

সুরঞ্জিত বলেন, ‘বিএনপির আগের নেতা দিয়ে কাজ না হওয়ায় এখন আবার এমাজউদ্দীনকে নেতা বানিয়েছেন। তিনি বলেছেন- এবার যদি ভোট দেন, তবে তিন মাসের মধ্যে সরকার ফেলে নতুন নির্বাচন দেবেন। আমি বলি- ‘বন্যরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃকোড়ে’। ভিসি সাব আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোই ভালো।’

 

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গতকাল বিএনপির মওদুদ আহমদ বলেছেন- নির্বাচন কমিশন সাংঘাতিক অন্যায় করে ফেলেছে। সুজনকে পর্যবেক্ষক থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তারাই পর্যবেক্ষক হয়, যাদের নাম নিবন্ধিত থাকে। এখানে যাদের নাম নিবন্ধিত ছিল, তাদের নামই এখনো আছে।’

 

সুরঞ্জিত বলেন, ‘সুজন একটি এনজিও। তারা পর্যবেক্ষক না। তারা ভাষণ-টাষণ দেয় আরকি। এই ধরনের দায়িত্বশীল লোকের কাছে এই রকম দায়িত্বহীন কথা মানুষ নির্বাচনের আগে আশা করে না।’ মাহী বি. চৌধুরীর ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তাদের বোঝানোর পরও তারা শোনেননি। কিন্তু বিএনপি একজনকে সহ্য করতে পারল না। স্ত্রীসহ মাহীর ওপর হামলা চালালো। সে স্পষ্ট বলেছে- তার বাবাকে যারা হামলা করেছিল, তারাই তার ওপর হামলা করেছে।’

 

ডা. খন্দকার এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপাতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments