শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিদেশে কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না মানুষ দেশান্তরী হবেই: রওশন

দেশে কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না মানুষ দেশান্তরী হবেই: রওশন

সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, দেশে কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। মানুষের হাতে কাজ নেই। বাধ্য হয়ে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশান্তরী হচ্ছেন।

তিনি মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে প্রস্তাবিত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু দিক ‘হতাশাজনক’ মন্তব্য করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘এই বাজেটের কিছু কিছু দিক ভালো, কিছু কিছু দিক দেখে মানুষ হতাশ হয়েছে। সবদিক থেকে এই বাজেট জনকল্যাণে ভূমিকা রাখবে না বলে আমি মনে করছি।’

এ সময় বিনিয়োগ ‘না বাড়ার’ পেছনে বিনিয়োগ বোর্ডের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়াকে দায়ী করেন তিনি।

রওশন এরশাদ বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ ধরা হয়েছে। এজন্য দরকার বিনিয়োগ, বিদেশি বিনিয়োগ। বিদেশি বিনিয়োগ আছে কি? বিনিয়োগ না থাকলে কীভাবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে? দেশের যে পরিস্থিতি, তাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। ৭ শতাংশ কীভাবে হবে?’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। দেশের চার কোটি লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে। তাদের হাতে কাজ নেই। অথচ বাজেটে এ বিষয়ে কিছু নেই; কর্মসংস্থানেরও নির্দেশনা নেই।’

সরকার আশ্রিত বিরোধী দলীয় এই নেতা বলেন, ‘কর্মসংস্থান না হলে মানুষতো সমুদ্র পার হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাবেই। কর্মসংস্থান নেই বলেই ওমরা ভিসা নিয়ে দেশ ছেড়ে আর ফেরে না। অবৈধভাবে থাকছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫,১০০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪২৪৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে বাজেটে ঘাটতি থাকছে ৮৬,৬৫৭ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন বলেন, ‘বাজেটে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। সেটা কীভাবে থেকে পূরণ হবে? এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এ কাজে যে খরচ হয়েছে, তার কোনো হিসাবও বাজেটে নেই।’

রওশন বলেন, ‘বিনিয়োগ বোর্ডে ফাইল গেলে পড়ে থাকে, নড়ে না। এজন্য বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে চলে যায়। বিদ্যুৎ-গ্যাসের উন্নয়ন হয়নি। বিনিয়োগ কীভাবে আসবে?’

তিনি মোবাইল ফোনের সেবায় ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ‘মোবাইলে কর ধরা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ মোবাইলে যোগাযোগ করে। করটা না ধরলে কী হতো?’

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। ভুক্তভোগী হবে জনগণ। এ বিষয়েও বাজেটে নির্দেশনা নেই। সরকার অনেক স্বপ্ন দেখায়, সব কি বাস্তবায়ন হয়?’

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রকল্পগুলো ফিরে এসেছে।

এ সময় বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘বাজেট প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হয়ে গেল। বিভিন্ন কারণ ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে একটু দেরি হয়ে গেল।’

এক প্রশ্নের উত্তরে রওশন বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) সামনে যখন বলতে পারছি, তখন সংসদেও এ কথাগুলো নিশ্চয়ই বলব। আমাদের আগের বিরোধী দলের সঙ্গে তুলনা করবেন না। আমরা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চাই। সংসদ বর্জন করব না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশীদ, রুহুল আমিন হাওলদার ও ফখরুল ইমাম উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments