রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাআত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে মনোহরগঞ্জে দু’দফা সন্ত্রাসী হামলা, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে মনোহরগঞ্জে দু’দফা সন্ত্রাসী হামলা, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে প্রতিপক্ষের বাড়িতে দু’দফা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৪টি বসত ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ওই সন্ত্রাসীরা কয়েকটি গবাদিপশুও নিয়ে গেছে এবং ওই বাড়ির খড়ের গাঁদায় আগুন দিয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের আলোকপাড়া গ্রামের দুবাই প্রবাসি নুর আলমের সঙ্গে পাশ্ববর্তী শ্রীধরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে পাখি বেগমের সামাজিকভাবে বিয়ে হয় প্রায় ১২ বছর আগে। তাদের সংসারে আয়েশা আক্তার ও আবদুল্লাহ নামে দু’টি সন্তানও রয়েছে। তবে সম্প্রতি নুর আলম দুবাই থেকে দেশে এলে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলাহ সৃষ্টি হয়। গত বুধবার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে ফের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটা-কাটি ও তুমুল ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নুর আলম তার স্ত্রীকে মারধরও করে। এর কিছুক্ষন পরেই স্ত্রীর উপর অভিমান করে বিষপান করে নুর আলম। বিষপানের বিষয়টি বুঝতে পেরে স্ত্রী পাখি বেগম চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে নুর আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, এ আত্মহত্যার ঘটনার পর নুর আলমকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তার চাচা পাশ্ববর্তী বিপুলাসার ইউনিয়নের সাইকচাইল গ্রামের ছাদেক আলী নুর আলমের স্ত্রী পাখি বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার পাখি বেগমকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
অন্যদিকে, পাখি বেগমের পিতা উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার পর ছাদেক আলীর নেতৃত্বে এক-দেড়শ’ সন্ত্রাসী আমার বাড়িতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে দু’দফা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমার বাড়ির ৪টি বসত ঘর ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। এছাড়া সকল ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। নিয়ে গেছে ৪টি গরু ও ৩ ছাগলও। এছাড়া আমার বাড়ির খড়ের গাঁদায় আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ওই সন্ত্রাসী হামলায় ছাদেক আলীর সঙ্গে সালেহ আহমদ, মহিন উদ্দিন, তুফান ও রবিউল নেতৃত্ব দেন বলে জানান তিনি। জয়নাল আরও বলেন, গ্রামের সকলেই দেখেছে আমার জামাতা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আর যদি আমার মেয়ে অপরাধী হয়ে তাহলে এদেশের আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু আমার বাড়িতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট কেন হবে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের আতংকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জয়নাল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে ছাদেক আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা। ওই বাড়িতে আগুন দেখেছি। তবে কে বা কাহারা আগুন দিয়েছে বা ভাঙচুর করেছে আমি জানি না।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি। আপনি পরে ফোন করুন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments