রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeধর্মকল্যাণকামী রাষ্ট্রগঠনে নবীজির আদর্শ : মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমিন

কল্যাণকামী রাষ্ট্রগঠনে নবীজির আদর্শ : মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমিন

আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামিন। অল আ’কিবাতু লিলমুত্তাক্বিন, ওয়া আ’লা আলিহী ওয়াআসহাবীহি আজমাঈন। বিশ্ব নন্দিত নেতা বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এই দুনিয়ার শ্রেষ্ট মানুষ ও আল্লাহর প্রিয় রাসূল। আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য তাঁর প থেকে যেসব ব্যক্তিকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন হুজুর হলেন তাদের অন্যতম। যাকে বলা হয় আশরাফুল আম্বিয়া সকল নবীদের সর্দার। নবী-রাসূলগণ দুনিয়ায় আল্লাহর বার্তাবাহক, সমাজে দ্বীন প্রচার করাই ছিল তাঁদের কাজ। ‘দ্বীন’ অর্থ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর বান্দার জন্য আল্লাহর দ্বীন হলো সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা। মহানবীর (সঃ)ওপর নাজিলকৃত আল্লাহর কিতাব ঐশিবাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও রাসূলের জীবনাদর্শ কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতিকে পথ দেখাবে। আল্লাহর নবী বলেছেন, “লান তাদিল্লু মা তামাছছাকতুম বিহিমা কিতাবাল্লাহি ওয়া সুন্নাতে রাসুল” যারা আল্লাহর কিতাব ও তার রাসুলের আদর্শ অনুসরণ করবে তারা কখনও পথভ্রষ্ঠ হবেনা । অতএব, যদি এ দু’টি জিনিস পৃথিবীর মানুষেরা মজবুতরূপে ধারণ করে, তাহলে তারা সঠিক পথ অনুসরণ করে চলতে পারবে। অন্যথায় তারা হবে বিভ্রান্ত বা তিগ্রস্ত । তাই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ বা জীবনাদর্শ সঠিক রূপে মেনে চলা প্রত্যেকের উপর অবশ্যকীয় কর্তব্য। আল্লাহ পাক সুরা আহযাবের২১ নং আয়াতে বলেন, ‘তোমাদের জন্য রাসুলের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’।

আল্লাহর হাবীব রাসুল (সা) এই দুনিয়ার সেরা মানুষ। তাঁর চরিত্র ছিল সর্বোত্তম। তিনি সকলের আদর্শ। স্বয়ং আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘তুমি অবশ্যই সর্বোত্তম চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত।’ (সূরা কলম-৪)

সমাজের খারাপ অবস্থা ও মানুষের দুর্দশা দেখে মহানবী (সাঃ) ব্যথিত হন। শৈশব থেকেই তিনি এ অবস্থার পরিবর্তন সাধনের উপায় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন। এ উদ্দেশ্যে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তাঁর মতো কতিপয় কিশোর-যুবককে নিয়ে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটি সংগঠন কায়েম করেন। এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো সমাজের দুর্বল, নিরীহ, দরিদ্র, বিধবা ও অসহায় নির্যাতিত,নিপিড়িত,লাঞ্চিত,বঞ্চিত মানুষকে সাহায্য করা, অন্যায়-দুষ্কর্ম প্রতিরোধ করা এবং মানুষে মানুষে সম্প্রতি ও সমাজে শান্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। নবুওয়্যত লাভের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ তেইশ বছর তিনি এভাবে সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।

নবুওয়্যত লাভের পর তিনি মানুষের কাছে আল্লাহর দ্বীন প্রচার শুরু করেন। নবুওয়্যতি জিন্দেগির তেইশ বছর তিনি দ্বীন প্রচারের কাজে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত থাকেন। তিনি মদিনার সকল অধিবাসীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সকলের সম্মতিতে ঐতিহাসিক মদিনা সনদ ঘোষণা করেন। এ সনদের ভিত্তিতেই সেখানে একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে, যার নেতা নির্বাচিত হন স্বয়ং বিশ্বনবী রাহমাতুললিল আ’লামিন মুহাম্মাদুর রাসুলল্লাহ (সাঃ)। আল্লাহর হাবীব জনাবে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। দুনিয়ায় সেটাই প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র এবং বিশ্বের সকল মুসলমানের জন্য একটি আদর্শ ও অনুসরণযোগ্য রাষ্ট্রব্যবস্থা। মহানবী (সাঃ) সেখান থেকে সারা দুনিয়ায় ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেন। ফলে ক্রমান্বয়ে সমগ্র বিশ্বে ইসলাম এক বিজয়ী আদর্শরুপে প্রতষ্ঠিত হয়।
মহানবী (সাঃ) একজন মানুষ এবং আল্লাহর রাসূল। তিনি ছিলেন আদর্শ নেতা ও মানবজাতির মহান শিক। নবীজি বলেছেন, “বুয়িছতু মুয়াল্লিমান”। আমি প্রেরিত হয়েছি শিক হিসেবে। তিনি দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন এবং সে দ্বীনের আলোকে নিজের জীবন, পরিবার, সমাজ-রাষ্ট্র ইত্যাদি সব কিছু পরিচালনা করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালক, সমরনায়ক, সমাজপতি, বিচারক, নীতি-নির্ধারক ইত্যাদি বিভিন্ন েেত্র তিনি ছিলেন আদর্শ ব্যক্তি। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামীর আদর্শ,সেনাপতির আদর্শ,পিতার আদর্শ, বন্ধুর আদর্শ, প্রতিবেশির আদর্শ,রাষ্ট্রপতিরও আদর্শ।। তাঁর মহান চরিত্র ছিলো সম্পূর্ণ নিখুঁত ও সকলের নিকট প্রশংসনীয়।

প্রকৃতপে তাঁর সান্নিধ্যে যাঁরা এসেছেন, তারা সকলেই তাঁর চরিত্র-মাহাত্ম্যে মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছেন। তলোয়ার হাতে তাঁকে খুন করতে এসেও তাঁর ব্যবহারে,আদর্শে মুগ্ধ হয়ে তলোয়ার ফেলে দিয়ে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেছেন। তাঁর মহত্ত্ব, উদারতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁর প্রচারিত কোরআনের ফায়েয ও বরকতে হযরত উমরের মতো কঠিন দিলের মানুষও একই ভাবে তলোয়ার ফেলে মুসলমান হয়ে শ্রেষ্ঠ মানবিক গুণের অধিকারী হয়েছেন। শত বাধা-বিপত্তি ও বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে অত্যল্পকালের মধ্যে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শরুপে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দুনিয়ার সকল অন্ধকার ও ভ্রান্ত মতবাদের ওপর আল্লাহর দ্বীনকে চূড়ান্তরূপে বিজয়ী করার জন্য যে দু’টি জিনিস সহায়ক ছিলো তার একটি মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং অন্যটি কুরআনের দীপ্ত আলোয় উদ্ভাসিত সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নবী মুহাম্মদের (সাঃ) জীবনাদর্শ।

আল কুরআন ও মহানবীর (সাঃ) সে আদর্শ এখনো বিদ্যমান মানবজাতি তা গ্রহণ করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসতে পারে। এ পথেই রয়েছে মানুষের মুক্তি, শান্তি ও সার্বিক কল্যাণ। রাসুলের (সাঃ) সেই উসউয়ায়ে হাসানা গ্রহণ করলে শ্রেষ্ট মানুষ হওয়া সম্ভব, অধিক সম্ভব একটি কল্যাণ কামী রাষ্ট্র গঠন। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন আমীন।

লেখকঃ
সাংবাদিক,গবেষক
চেয়ারম্যান,ইসলামিক দাওয়াহ ফাউন্ডেশন

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments