শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeকক্সবাজারকক্সবাজারে কমছে বানের পানি, ফিরছে মানুষ : ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন

কক্সবাজারে কমছে বানের পানি, ফিরছে মানুষ : ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন

বন্যায় বসতভিটাহীন মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজের নীড়ে। কক্সবাজারে বানের পানি নামতে শুরু করায় বসতভিটায় ফিরছে মানুষ। তবে অনেক এলাকায় এখনো বানের পানি সরেনি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬৭০টি গ্রামের প্রায় দেড় লক্ষাধিক বসতভিটা। সবমিলিয়ে এখনো দূর্ভোগ কমেনি কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার বানভাসী মানুষের।
গত ৫ দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের ও মৎস্য খামার প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। শতাধিক ব্রীজ-কালভার্ট, সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুর্গতদের। এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা বলছেন, দূর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়।
গতকাল সোমবার রামু ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি থেমে গিয়ে বানের পানি নেমে যাওয়ায় কমতে শুরু করেছে জলমগ্ন থাকা এসব ঘরবাড়ি। ফিরতে শুরু করেছেন বসতির বাসিন্দারা। তবে পানি যতই নেমে যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে দূর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্য। চেয়ার-টেবিল, খাট থেকে শুরু করে বসতভিটার বেশিভাগই এখনো জলমগ্ন এবং খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ। তাতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে ফেরা বানভাসি মানুষ।
‘বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, দোকানপাট ও কৃষি ফসল সব ভেসে গেছে। এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। খাবারও কিছু নেই। আল্লাহ তুমি বাঁচাও’।
রামু উপজেলার হাইটুপি গ্রামের চাঁন মিয়া (৫০)। অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি, গবাদি পশু এবং কৃষি ফসল হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। এভাবে প্রতিবেদক জানাচ্ছিলেন তার আকুতির কথা।
শুধু চাঁন মিয়া, এখন রামুর প্রতিটি পরিবারের একই অবস্থা। গত ৫ দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাত ও রোববার বৃষ্টিপাত না হাওয়ায় আস্তে আস্তে কমছে পানি। পানি কমার সাথে সাথে ভেসে উঠছে ঘরবাড়ি, মাছ, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন। আর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে দূর্গত মানুষগুলো পড়েছে চরম দূর্ভোগে।
রামুর হাইটুপির হারুন অর রশিদ (৬০)। রাস্তার খাটের উপর বসে চাল শুকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি বলেন, বন্যায় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। গত ৫ দিন ধরে কোন রকম শুকনো খাবার খেয়ে বেছে আছি। এখন চালগুলো শুকিয়ে কোন রকম রান্না করে চেষ্টা করবো।
চারমারকুল এলাকার রহিমা বেগম (৫৫) বলেন, ৫দিন পর ঘরে আসলাম। দেখি কিছুই নেই ঘরে। শুধু পড়ে আসবাবপত্রগুলো। এখন কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে ঘরটা ঠিক করছি।
ফতেরখারকুল ইউনিয়নের আবদুল খালেক বলেন, ঘরে ২ ফুট পর্যন্ত পানি রয়েছে। কিছুই করতে পারছি। এখন পানি সরানোর চেষ্টা করছি।
বাংলাবাজার এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী খতিজা খাতুন বলেন, গত ৩দিন ধরে শ্বশুড়-শাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে অপোস ছিল। বাড়িতে ফিরে এখন কোন রকম রান্না করার চেষ্টা করছি, বেঁছে থাকতো হবে।
এদিকে গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক’শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম।
তিনি জানান, রামুর ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ৬০ শতাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি ৪০ শতাংশও মেরামত করতে হবে। এছাড়া কৃষি জমি, মাছের প্রজেক্ট ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দূর্গত মানুষগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এখন তাদের সহায়তার জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিবান এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি নামতে শুরু করে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া লোকজনের অনেকেই বাড়ী ফিরতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, পুরো জেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে। দূর্যোগ পরবর্তী সমস্যা কাটিয়ে উঠতে যা যা করার প্রয়োজন তা প্রশাসন করবে। দূর্গতদের সহযোগিতায় সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে তিনিজানান।
কক্সবাজার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া মানুষ ও দূর্গত লোকজনের মাঝে ইতিপূর্বে ১৪৫ মেট্রিক টন চাল, ১৪৫ বস্তা চিড়া, ১৪০ তা গুড় এবং নগদ ১১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে আরো ৭৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখার তথ্য মতে, কক্সবাজারের ৫ দিনে পাহাড় ধস, প্লাবনে ভেসে, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে জেলায় মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। এ পর্যন্ত আরো ১ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য রয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ৬০টি ইউনিয়নের ৩’শ কিলোমিটার কাঁচাপাকা সড়ক, ৬’শ ৭০ গ্রামের প্রায় দেড় লক্ষাধিক ঘরবাড়ি। এছাড়া তলিয়ে গেছে ১২ হাজার ৪০ হেক্টর ফসলি জমি, ১৮ হাজার ৪৬৭ হেক্টর চিংড়ি ঘের ও ১১ হাজার ১’শ ৩৯টি পুকুর-দীঘি।
চকরিয়ায় উুঁচ সড়ক ও ব্রিজের ওপর মানুষ ও গবাদি পশু : চকরিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার ছোটন কান্তি নাথ জানান- চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে মাতামুহুরী নদী এবং মহাসড়ক লাগোয়া সবকটি ইউনিয়নে। তবে নতুন করে বানের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে এসব মানুষ।
সরজমিন গত দুইদিন উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন যথাক্রমে সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালীর বন্যাদুর্গত গ্রাম পরিদর্শনে দেখা যায় বদরখালীর কিছু অংশ ছাড়া অন্যসব ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়ি এখনো ৫-৬ ফুট বানের পানিতে তলিয়ে রয়েছে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম গ্রামীণ অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় করে যাতায়াত করছে মানুষগুলো।
পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন, কোনখালীর চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, পূর্ব বড় ভেওলার ইব্রাহিম খলিল, বিএমচরের বদিউল আলম, ঢেমুশিয়ার রুস্তম আলী, সাহারবিলের আবদুল হাকিম ও বদরখালীর চেয়ারম্যান নূরে হোছাইন আরিফ জানান, ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে এখনো একাকার হয়ে রয়েছে ইউনিয়নগুলো। এতে কম করে হলেও এসব ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ বানের পানিতে ভাসছে। বসতবাড়িগুলো ৫-৬ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাথা গোঁজারও ঠাঁই হচ্ছে মানুষগুলোর। এতে পিএবিসি আঞ্চলিক মহাসড়কের চকরিয়া অংশের দুই পাশে এবং উুঁচ সড়ক ও ব্রিজের ওপর গাদাগাদি করে গবাদী পশুর সঙ্গে বসবাস করছে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষগুলো। টিউবওয়েলগুলোও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে এসব মানুষ। বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দ দেওয়া ত্রাণ একেবারে অপ্রতুল হওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে তারা।
এদিকে চকরিয়ার বন্যাদুর্গত ১৮ ইউনিয়ন এক পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষের অধিকাংশই ত্রাণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। কেননা ধনী, মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র এমন কোন পরিবার নেই যারা বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গত এক সপ্তাহ ধরে চুলোর আগুনে হাঁড়িও চড়াতে পারেনি। এই অবস্থায় শুকনো খাবার ও ত্রাণের ওপরই নির্ভরশীল তারা। যেখানে ত্রাণ দেওয়ার খবর পাচ্ছেন সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত মানুষগুলো। ত্রাণের জন্য হাহাকার করা মানুষগুলোর ভিড় সামলাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের। এখনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মধ্যেই রয়েছে এসব মানুষ।
কোনাখালী ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, ‘শুধু আমাদের ইউনিয়ন নয়, উপকূলীয় সবকটি ইউনিয়নের এক ইঞ্চি জায়গাও অবশিষ্ট নেই, যেখানে বানের পানিতে তলিয়ে যায়নি। এতে দুবির্ষহ অবস্থায় পরিবার সদস্যদের নিয়ে অন্যদের মতো আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝুঁপড়ি ঘরে বেঁধে আশ্রয় নিয়েছি। সাথে গবাদী পশু রয়েছে।’
চকরিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণে আসা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, ‘কক্সবাজারে এবারের বন্যা যে এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। চকরিয়ার দুর্গম ইউনিয়ন চিরিঙ্গার চরণদ্বীপ গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে আমাকেও পীড়া দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের ত্রাণ ভান্ডারে যথেষ্ট ত্রাণ মজুদ রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার যাতে ত্রাণ সহায়তা পায় এবং বিলিন হয়ে যাওয়া বসতবাড়ি নির্মাণ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তাও দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমি কক্সবাজারের সবকটি উপজেলার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমার কাছে প্রেরণ করতে।’
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, ‘উপজেলার উঁচু ইউনিয়নগুলো থেকে ইতিমধ্যে নেমে গেছে বানের পানি। এসব ইউনিয়নে কম করে হলেও প্রায় ১২ হাজার বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিলিন এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নামার সাথে সাথে দুর্ভোগের একাকার রয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। এখন বানের পানিতে ভাসছে উপকূলীয় ইউনিয়নের মানুষগুলো। এখান থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে পুরো উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাহেদুল ইসলাম দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, ‘অপেক্ষাকৃত উুঁচ ইউনিয়নগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তবে উপকূলীয় ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখনো বানের পানিতে ভাসছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে পুনরায় যাতে বসতবাড়ি নির্মাণ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।’
ঈদগাঁও’র সাথে ঈদগড়-বাইশারীর সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন ৪ দিন ধরে ঃ টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে ঈদগাঁও-ঈদগড় বাইশারী সড়কের ভোমরিয়াঘোনা অংশের মন্ডলপাড়া ও রাজাইল্লা বিল পয়েন্ট ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে গত ৪ দিন ধরে ঈদগাঁও’র সাথে ইদগড় ও বাইশারীর সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। উল্লেখিত পয়েন্টগুলোতে বিশালাকারের ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় দু’পারের মানুষ কোনমতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। ভাংগনের কবলে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছে দু’পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। কারণ ইদগড় এবং বাইশারী ইউনিয়ন যথাক্রমে রামু উপজেলা ও পার্বত্যজেলা বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার অর্ন্তগত হলেও যোগাযোগ ও ভৌগলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে ওইসব এলাকার লোকজন ঈদগাঁও’র উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। উভয় এলাকার আমদানি রপ্তানির সিংহভাগ সড়ক ও নদীপথ দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্ত সড়কে ভাংগন দেওয়ার কারণে উভয় এলাকার মানুষ বানিজ্যিকভাবে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বাইশারী থেকে ঈদগাঁও’র কৃষিপণ্য আমদানীকারক সালেহ আহমদ জানান, যোগাযোগ খরচ বেড়ে যাওয়াতে মালের রেইট পড়ে যাচ্ছে বেশী। ঈদগড়ের ধুমচাকাটা এলাকার পারেচা বেগম জানান, যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় খরচ ও ভোগান্তি দুই-ই বেড়েছে।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments