ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন খালেদা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

 

তিনি বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদালতে পৌঁছান। এর আগে নয়টা ৩৫ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়া বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের উদ্দেশে রওনা হন।

 

খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

 

দুদকের দায়ের করা মামলা দুটির বিচারিক কার্যক্রম তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে শুরু হবে। আজ দুই মামলারই বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদকে আসামিপক্ষের অসমাপ্ত জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

 

আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক, বাকিরা জামিনে আছেন।

 

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

 

জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। জামিনে থাকা দুই মামলার আসামিরাও আদালতে হাজির থাকবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

 

নানা কারণ দেখিয়ে মামলা দুটির শুনানির জন্য নির্ধারিত ৬৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৮ কার্যদিবসই অনুপস্থিত থাকেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ধার্য তারিখ গত ১৮ জুনসহ হাজির হয়েছেন মাত্র ১০ দিন।

 

দীর্ঘদিন ধরে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া, কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

 

পরে গত ৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন খালেদা জিয়াসহ ওই তিন আসামি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।