জনগণকে পুড়িয়ে মারা আমরা বরদাশত করব না: প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ভবিষ্যতে কেউ যেন আর বর্বরতা চালানোর সাহস না পায় সে জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণকে পুড়িয়ে মারা ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করা কোনো রাজনীতি নয়। চলতি বছরের শুরুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে হতাহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

 

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৫ জন বাস মালিক, নিহত ১৫ জনের পরিবারের ৩০ জন সদস্য ও সাতজন আহতকে মোট আট কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে মানুষ চলাফেরা করবে, নিজের জীবনকে উন্নত করবে- এটাই তো মানুষের কাম্য। আর সেখানে যদি এভাবে মানুষের ক্ষতি করা হয়, তা আমরা বরদাশত করব না।’

 

চলতি বছরের শুরু থেকে পরবর্তী ৯২ দিন হরতাল ও অবরোধে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করব। তাদের কেউ রেহাই পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে আমরা নিতে শুরু করেছি।’

 

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যদি না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার সাহস পাবে। ভবিষ্যতে এভাবে যেন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সাহস না পায়, সেই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা তা করব।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারো ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষের এত বড় ক্ষতি কেউ কখনো করতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না।’

 

ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতি করি জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে, জনগণের মঙ্গলের জন্য। সেই রাজনীতির জন্য জনগণকে পুড়িয়ে মারার, জনগণের ক্ষতি করার, জনগণের জানমালের ক্ষতি করা, সেটা কোনো রাজনীতি নয়। এটা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিএনপি-জামায়াত জোট সেটাই করেছে।’

 

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৭৬ জন বাস মালিক এবং ৩১৮ জন নিহত ও আহতদের মধ্যে ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।