শুক্রবার, জানুয়ারী 21, 2022
শুক্রবার, জানুয়ারী 21, 2022
শুক্রবার, জানুয়ারী 21, 2022
spot_img
Homeভোলাভোলায় মেঘনার ছোবলে ১০ দিনে বেকার কয়েক শত শ্রমিক

ভোলায় মেঘনার ছোবলে ১০ দিনে বেকার কয়েক শত শ্রমিক

গত কয়েক দিনের দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা মেঘনার পানির তোরে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভাঙ্গন চলছে।

 

এতে করে ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়কসহ প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার কয়েক শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছ ঘাট, বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে কয়েক শত ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়েন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ফেরিঘাট এলাকার বহু শ্রমজীবী মানুষ।

 

বসত বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। অনেক পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে মনবেতর জীবন যাপন করছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলার মেঘনায় ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ করলে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা ভাঙ্গন।

 

এদিকে ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বুধবার ৪র্থ দিনের মত বন্ধ রয়েছে এ রুটের ফেরি চলাচল। তবে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিশ্বরোড এলাকায় ফেরিঘাট স্থানান্তর করে ভোলা-লক্ষীপুর রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

 

ভোলা সদর উপজেলার অন্যতম মৎস্য ঘাট ছিলো ইলিশা ফেরিঘাটের চডার মাথা। মাত্র ১০ দিনের ভাঙ্গনে আজ আর এই জমজমাট মৎস্য ঘাটটি নেই। নেই মৎস্য ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিদিন এই ঘাট থেকে কয়েক লাখ টাকার ইলিশ মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হতো। কিন্তু আজ ওই মৎস্য ঘাট শুধুই স্মৃতি।

 

ঈদের দিন থেকে অব্যহত ভাঙ্গনে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কসহ প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার দোকান পাট মাছের আড়ৎ বাড়ি ঘর আজ মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গৃহহারা পরিবারগুলো আশ্রয় খোলা আকাশের নিচে। বহু দোকান মালিক মৎস্য আড়ৎদার এখন লাখ লাখ টাকা  পুজি খাটিয়ে বেকার হয়ে লোকশানের মুখে পড়েছেন।

 

এদিকে এখন ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে, ইলিশা জংসন বাজার, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আরো একটি একটি মৎস্যঘাট, পুলিশ ফাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাজার হাজার একর জমি ও ৫টি ইউনিয়নসহ বিভিণ স্থাপনা। এলাকাবাসী জানায়, ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও খুবই শিগ্রই ঝূকির মুখে পড়বে ভোলা শহর। ঘর বাড়ি, দোকানসহ বিভিণœ স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন নদীর তীরবর্তি মানুষ। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ভাঙ্গনের ফলে নি:স্ব হয়েছেন।

 

এদিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে চট্রোগ্রামের সহজ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভোলা। ভাঙ্গন কবলিত ইলিশা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ফেরীঘাট পরিবর্তন করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

 

অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিগত দিনে দুর্যোগ থাকায় কাজের অগ্রতি কম হলেও এখন দুর্যোগ কিছুটা কমে যাওয়া পুরো দমে কাজ শুরু করেছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments