চকরিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচানোর জন্য স্মারকলিপি ও সমাবেশ

চকরিয়ায় কয়েক দফা বন্যা ও কোমেন ঝড়ে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ৫দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান এবং সমাবেশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও দিশেহারা কৃষকসমাজ।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যনের কাছে প্রদানকৃত ৫দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও আর্থিক ক্ষতিপূরণপূর্বক পুনর্বাসন। বিনাশর্তে কৃষকদের কৃষি ঋণের জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ। বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার। মগ-খালের জোরা খনন এবং কৃষকদের প্রয়োজনে চকরিয়ার রাবার ড্যাম সঠিক সময়ে খোলা ও বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।

 

গত রোববার ২আগস্ট করাইয়াঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম বি.এ (অনার্স) এম.এ। প্রভাষক আবদুল্লাহ আল নোমানের সার্বিক পরিচালনায় বিশাল কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

 

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল কাদের বি.কম, চকরিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল এহেসান বুলু মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন জয়নাল, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিল ছৈয়দ আলম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকগণ।

 

সমাবেশটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন মো. কামাল উদ্দিন, ফোরকানুল ইসলাম, নুরুল হুদা, সাহাব উদ্দিন ও আকতার হোসেন। সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চকরিয়া পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক কমিশনার জসীম উদ্দিন সিকদার।

 

কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, মা-বাবা মারা গেলে যেভাবে বিলাপ করে; কৃষকরা ক্ষিরাসহ সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ায় ঠিক সেইভাবে ক্ষেতে বসে বিলাপ করে কেঁদেছেন। কারণ তারা বিভিন্নজন থেকে ধার-কর্জ ও সুদী টাকা নিয়ে মৌসুমী শস্য তথা সবজি-শশা আবাদ করলেও বার বার বন্যা পরিস্থিতির শিকার হয়ে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন তারা নিঃস্ব দিশেহারা তাদের আর ক্ষেত করার মত কোন সামর্থ্য নাই। তাদেরকে যদি পুনর্বাসন ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ করা না হয়, তারা সবজি উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যর্থ হবে।

 

৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছৈয়দ আলম তার বক্তব্যে বলেন- কক্সবাজারের মধ্যে চকরিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডটি হচ্ছে সবজির জন্য বিখ্যাত একটি স্থান। এখানে উৎপাদিত মরিচ, ক্ষিরা, শসাসহ বিভিন্ন সবজি টেকনাফ থেকে শুরু করে ঢাকা-সিলেট পর্যন্ত রফতানি করার মাধ্যমে পাইকারী বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে থাকে কৃষকরা। বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। এই সরকার কৃষি ঘাটতি পূরণে সর্বদা সচেষ্ট।

 

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি চকরিয়া ও পেকুয়ায় পরপর বন্যার সম্মুখীন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত দুর্ভোগ পোহানো সাধারণ মানুষসহ কৃষিজীবিদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন, তার নিজ এলাকা ৫নং ওয়ার্ড থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আজ সোমবার থেকে মগ-খালের জোরা খনন এবং বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তার মেরামতের কাজ শুরু হবে।

 

তিনি বলেন, শীঘ্রই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার মাধ্যমে কৃষকরা গোলযোগহীন কৃষি উৎপাদন শুরু করতে পারেন; এজন্য সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি সহজ শর্তে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে কৃষিঋণ পায় এব্যাপারে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে কথা বলেছেন। এছাড়া জমির মালিকদেরকে বেড়িবাঁধ কেন্দ্রিক জমি ছেড়ে দিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।

 

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম এম.এ সভাপতির বক্তব্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বালা-মুসিবত সবই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর তরফ হয় উল্লেখ করে বিপদে সকলকে ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ দেন।

 

তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের কৃষকরা যাতে কৃষিকাজে নামতে পারেন সেই লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০হাজার টাকা করে কৃষিঋণ প্রদানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হোক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই তালিকা প্রদানের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।

 

এছাড়া টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য মাটি কাটার ব্যয়ভার উপজেলা পরিষদ বহন করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি বাঁধ টেকসইকল্পে পাথরের ব্লক বসানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।