শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজাতীয়সরকারের প্রতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান: এইচআরডব্লিউ

সরকারের প্রতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে আত্মনিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবের পরিবর্তে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

 

সংস্থাটি বলেছে, মুক্তমত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায়। ‘বাংলাদেশ: স্টপ প্রোমোটিং সেল্ফ-সেন্সরশিপ’ শিরোনামে ওই বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ আগস্ট ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আবারো সবার নিরাপত্তা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

 

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, এটা মর্মপীড়াদায়ক যে, পুলিশের কাছে ব্লগাররা তাদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ করা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ব্লগারদের সুরক্ষা দিতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং তারা আত্মনিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের স্মরণ রাখা উচিত যে, তাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা এবং জনগণের জীবন এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেয়া।

 

নিলয় নীল নামে ব্লগে লেখালেখি করতেন নিহত ব্লগার। ধর্ম-নিরপেক্ষতার সমর্থনে কথা বলার কারণে এ বছর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া চতুর্থ ব্লগার তিনি। কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো যে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা প্রস্তুত করেছে, তাদের মধ্যে এ ৪ জন রয়েছে। তাদের ইসলামবিরোধী ও সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মমতের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষকারী ব্লগার হিসেবে বর্ণনা করছে এ সংগঠনগুলো।

 

ব্লগার নিলয়কে রাজধানীতে তার বাড়িতে গিয়ে কুপিয়ে হত্যার বর্ণনা তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। উঠে এসেছে কথিত আল-কায়েদা সহযোগী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের হত্যার দায় স্বীকার ও তাদের হুমকির বিষয়টি।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, নিলয়কে হুমকি দেয়া বা তার আগে যে ব্লগারদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার বিষয়টির পরিবর্তে, পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল (আইজি) একেএম শহীদুল হক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের আইন অনুযায়ী, কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানা অপরাধ’। দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিলেও তিনি ব্লগারদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা মুক্তচিন্তার অধিকারী এবং লেখক, তাদের কাছে আমার অনুরোধ যে, আমরা যেন সীমালঙ্ঘন না করি সেটা নিশ্চিত করা।

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও বলেছেন যে, ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসমূহে দ্রুত তদন্ত শুরু হবে, এর আগে ‘মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত’ দেয়ার জন্য ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

 

তার সরকার বাক স্বাধীনতা, সুশীল সমাজের নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার হুমকি দেয়া বা তাদের বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা এবং মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ যারা নিরাপত্তা বাহিনীর আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন, তাদেরকেও টার্গেট করেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments