পৌর নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষমতাসীনরা আতঙ্কিত করে তুলেছে

ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা পৌরসভা নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশনের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কমিশন ডিসকাউন্ট রেটে নয়, একদম বিনা পয়সায় শাসকদলের অশুভ ইচ্ছার কাছে নির্বাচনী পরিবেশ বিক্রি করে দিয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘সরকারি তাণ্ডবের মুখে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই নয়টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র এক রকম জোরপূর্বক জমা দিতে দেয়া হয়নি। কমিশন ব্যর্থ না হলে নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার হতো না এবং ধানের শীষের প্রার্থীরা অপহরণও হতেন না।’

 

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জনগণকে অন্ধের হাতি দেখাচ্ছে। তবে এটি করে এখন কোনো লাভ হবে না। কারণ জনগণের চোখ সদা জাগ্রত।’

 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে স্বৈরতন্ত্রের যে বিভৎস আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, তাকে ঠেকিয়ে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ, এবং ভয়মুক্ত নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের জেনেশুনে বিষ পান করার মতোই বিষয়টি দাঁড়াবে।’

 

রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি ঢালাও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করতে একমাত্র ধারাল অস্ত্র হচ্ছে সংগঠিত জনগণের সম্মিলিত শক্তি। অনেক ত্যাগ করে হলেও নিঃশেষিত, সঙ্কুচিত গণতন্ত্র প্রসারিত করতে সরকারের সকল চক্রান্ত, জুলুম-নির্যাতন ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করে আগামী পৌর নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করতে হবে।’

 

তিনি বলেন, দেশে হাসিনা-মার্কা নির্বাচনের একটি ব্রান্ড তৈরি হয়েছে। সেটি হচ্ছে- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভয়াল পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেতে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলা, ব্যালট বাক্স উধাও আর ভোর চারটার মধ্যেই নিজেদের লোক দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া।

 

এ সময় বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহীর বাগমারা, নারায়ণগঞ্জের তারাবো, মুন্সীগঞ্জের সদর, বরগুনার বেতাগী, ফেনীর দাগণভূঁইয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয়দের বিধি লঙ্ঘন এবং হামলার ঘটনা তুলে ধরেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।