শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজাতীয়ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ, নিহত ৩, আহত অর্ধশতাধিক

ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ, নিহত ৩, আহত অর্ধশতাধিক

সোমবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত ও কয়েকশ’ আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই ভূমিকম্পের আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

 

এছাড়া ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের মনিপুরে অন্তত ৮ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোররাত পাঁচটা ৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় চারটা ৩৫ মিনিট) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬.৭।

 

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মনিপুর রাজ্যের ইম্ফল থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকা।

 

ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ৩৫৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। আঘান হেনেছে বাংলাদেশে।

 

আর ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর চারটা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। উৎপত্তিস্থল ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে টামেংলং জেলার নোনি গ্রামে।

 

ভূমিকম্পে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে হুড়মুড়িয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী ও লালমনিরহাটে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে তিনজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ।

 

ঢাকায় নিহত ব্যক্তির নাম আতিকুর রহমান (২৩)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ম্যানেজমেন্টের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুরের মঈনুদ্দিনের ছেলে। থাকতেন রাজধানীর পূর্ব জুরাইনের একটি মেস বাসায়।

 

ঢাকায় নিহত আতিকুরের প্রতিবেশীরা জানায়, ভূমিকম্পের সময় প্রায় ১০-১২ জন একসঙ্গে দোতলা থেকে হুড়োহুড়ি করতে নামেন। এ সময় আতিকুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

রাজশাহীতে নিহত ব্যক্তির নাম খলিলুর রহমান (৩৮)। তার বাড়ি শহরের মেহেরচন্ডী এলাকায় এবং তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের প্রধান বাবুর্চি ছিলেন।

 

নিহত খলিলুরের প্রতিবেশী রাজীব বলেন, ‘তিনি খাট থেকে নেমে জামাকাপড় নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় অসুস্থ হয়ে সেখানেই মারা যান।’ আর লালমনিরহাটে নিহত ব্যবসায়ীর নাম নুরুল ইসলাম (৫৫)। তার বাড়ি পাটগ্রাম উপজেলার ঘোড়াবাড়ি গ্রামে।

 

প্রতিবেশীরা জানায়, ভূমিকম্পের পর নুরুল ইসলাম আতঙ্কে দ্রুত ঘর থেকে বের হতে গেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

 

এছাড়া ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে একসঙ্গে ছুটোছুটি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, নেপালে গতবছরের এপ্রিলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৯,০০০ মতো মানুষ মারা গেছে। প্রায় ১০ লাখের মত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। সে সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

 

এছাড়া ২০০৫ সালে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে আর এক ভূমিকম্পে ৭৫,০০০ মানুষ নিহত হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments