রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লামনোহরগঞ্জ বার্তা সম্পাদকের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন নিয়ে লৎসর গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ও নিন্দা...

মনোহরগঞ্জ বার্তা সম্পাদকের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন নিয়ে লৎসর গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মনোহরগঞ্জ বার্তা ভারপ্র্প্তা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (ওরফে নঈম আজাদ) এর বাড়ীতে হামলা ভাংচুর শিরনামে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে লৎসর গ্রামবাসী।

 

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লৎসর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মতিনের আহবানে লৎসর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সভায় এ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। মূলতঃ আবুল কালাম আজাদ (ওরফে নঈম আজাদ) মুরাদনগর উপজেলার একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

 

জানা যায়, লৎসর মিয়া বাড়ীর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য দীর্ঘ ৭০ বছর আগ থেকেই একটি চলাচলের পথ ছিল। ৩০-৩৫ বছর আগে সকলের সহযোগিতায় ওই স্থানে পূনাঙ্গ রাস্তা তৈরী হয়। পথটির উক্ত বাড়ীর ৬ অংশীদারের যৌথ সম্পত্তির উপর নির্মিত। এ পথ দিয়ে লৎসর, শালেপুর, দিশাবন্দ, চড্ডাসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারী নিয়মিত চলাচল করে।

 

গত ৬ মাস আগে আবুল কালাম আজাদ দৈনিক ইত্তেফাক মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি সুমনের সীমানায় জোরপূর্বক বাউন্ডারী ওয়াল করার অপচেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে নঈম আজাদ উক্ত রা¯তার ২টি অংশে মাটি কেটে গর্ত করে চলাচলের বিঘ্ন ঘটায়। এক পর্যায়ে সে আরো হিংস্র হয়ে উঠে। রাস্তার মধ্যে আরও দুইটি বেড়া দিয়ে চলাচলের পুরোপথটি বন্ধ করে দেয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় বাড়ীর সকল অংশীদার স্কুল, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, পথচারী, মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসী চলাচলের পথ।

 

বিষয়টি ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বাবুলসহ গ্রামবাসীকে অবহিত করা হয়। পরে ইউপি মেম্বার বাবুলের নেতৃত্বে বিষয়টি সুষ্ঠ্য সমাধানের জন্য গত ২৭ ফেব্র“য়ারী এক শালিস বৈঠকের তারিখ নির্ধারন করা হয়। বৈঠকে আবুল কালাম আজাদ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ওই পথে মাটি কাটা ও বেড়া দেয়াকে সঠিক বলে দাবী করে। সালিশে সকলের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বৈঠকস্থল ত্যাগ করে। তার এহেন কর্মকান্ডে রূঢ় আচরনে হতাশ হয় গ্রামবাসী।

 

পরে উপস্থিত শালিসগণ শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেয়ার লক্ষে শালিসগণ ঐক্যমত পোষন করেন এবং সমাদের সিদ্ধাšত অনুযায়ী পরে শালিসগণের নেতৃত্বে পথটি উন্মোক্ত করে দেয়া হয়।

 

এসময় আবুল কালাম আজাদ সালিশগণ ও পক্ষদ্বয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলা দিয়ে দেখিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়। প্রকৃত পক্ষে সাপ্তাহিক মনোহরগঞ্জ বার্তা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এর বাড়ীতে সুমন ও ইউপি সদস্য বাবুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। সে তার হীনস্বার্থ চরিচার্থ করার লক্ষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সালিশদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে। সমাজ অবমাননাকারী আবুল কালাম আজাদ একই দিনে উক্ত সালিশের সভাপতি এস. এম হেলাল ও আহবায়ক মেম্বার ইসমাইল হোসেন বাবুল ও দৈনিক ইত্তেফাক মনোহরগঞ্জ সংবাদদাতা আব্দুল গাফফার সুমনসহ ১২ জনকে আসামী করে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত সালিশগণকে সন্ত্রাসী লুটতরাজ আখ্যাদিয়ে তাদেরকে অভিযুক্ত করেন।

 

বিষয়টি নিয়ে গত ৩ মার্চ সাপ্তাহিক মনোহরগঞ্জ বার্তা পত্রিকার সম্পাদকে বাড়ীতে হামলা ভাংচুর, বাড়ী দখল ও প্রাণাশের হুমকি একটি মিথ্যে ও বানোয়াট সংবাদ ছাপানো হয়। এতে উল্লেখ্য করা হয় একই গ্রামের সুমন ও ইউপি মেম্বার বাবুলের নেতৃত্বে আবুল কালাম আজাদের বাড়ীতে হামলা চালিয়েছে ৩০/৩৫ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল। মূলত আব্দুল গাফফার সুমন দৈনিক ইত্তেফাক মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি। ওই সালিশের একজন পক্ষ। বাবুল খিলা ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার।

 

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ৩০/৩৫ জন সস্ত্রাসী  দল হিসাবে যাদের আখ্যা দেয়া হয়েছে মূলতঃ তারা এ বৈঠকের শালিসদার। তাদের নেতৃত্বে আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক বাড়ীর চলাচলের রা¯তায় মাটি কেটে তৈরি করা ২টি গর্ত ভরাট ও ২টি বেড়া উন্মোক্ত করে দেয়া হয়।

 

এ দিকে প্রায় ১৩ বছর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্সেনিক মূক্ত একটি গভীর নলক’প বসানো হয় তার বাড়ীর সামনে। সম্প্রতী এ নলকুপে আব্দুল গাফফার সুমনের ছোট ভাই হোসেন পানি আনতে গেলে ওই সময়ে বাড়ীতে থাকা মনোহরগঞ্জ বার্তার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিছন দিক থেকে এসে কড়ই গাছের মোটা ঢাল দিয়ে উপর্যপুরি এলোপাথাড়ি আঘাত করে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের গ্রাম্য সাশিসের অনেকেই বিষয়টি অবহিত করা হয়।

 

ঘটনার পর গুরুতর আহত হোসেনকে লাকসাম সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিজেই ঘটনা ঘটিয়ে ওইসময় আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নিকট উল্টো তার হামলায় আহত হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা এ পুলিশ সুপার মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে মনোহরগঞ্জ থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন ও এস আই ইদ্রিছ অভিযোগের তদšত করেন। তদন্তের পর উল্লেখিত অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়। যাহা মনোহরগঞ্জ থানায় নথিভূক্ত হয়। মনোহরগঞ্জ বার্তায় সুমন বাবুল ও গ্রামবাসীকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদটি ছাপানোর পর গত ৪ মার্চ শুক্রবার লৎসর গ্রামের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মতিন মনোহরগঞ্জ বার্তার মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে লৎসর গ্রামবাসীকে নিয়ে এক জরুরী বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে উপস্থিত গ্রামবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত ওই মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

 

এসময় বৈঠকে উপস্থিত মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবির মানিক, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাংবাদিক আবদুর রহিম, প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্যাহ, সাংবাদিক আবুল খায়ের কে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে লৎসর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মতিন জানান, মানুষ সমাজবদ্ধ জীব সামাজিক সকল সমস্যা নিরসনে যুগ যুগ ধরেই সমাজ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments