শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিদুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন: আপিল বিভাগ

দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন: আপিল বিভাগ

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলের শুনানি ২৭ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি করেছে আদালত।

 

রবিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৯ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ক্ষমাপ্রার্থনা করলেও দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। তাদের বক্তব্য ঔদ্ধত্যপূর্ণ।

 

এ সময় আদালত অবমাননার দায়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। খাদ্যমন্ত্রীকে নতুন করে তার ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন আদালত। শুনানি শেষে আগামী ২৭ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে আদলত। ওই দিন দুই মন্ত্রীকে আবারো আদালতে হাজির থাকতে হবে।

 

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চের অপর আট সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মোহম্মদ বজলুর রহমান।

 

এর আগে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে দুই মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাজির হন। এদিন আদালতে মোজাম্মেল হকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। কামরুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আবদুল বাসেত মজুমদার। আইনজীবীরা দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন করেন।

 

গত মঙ্গলবার সশরীরের আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। ঐ দিন আদালতে হাজির না হয়ে সময় প্রার্থনা করেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

 

প্রধান বিচারপতি ও বিচারাধীন মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগের ফুল কোর্ট আদালত অবমাননার অভিযোগে ঐ দুই মন্ত্রীকে তলবের নির্দেশ দিয়েছিল।

 

একইসঙ্গে আদালত অবমাননার দায়ে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুই মন্ত্রীর পক্ষে দুটি আবেদন দাখিল করা হয়। এরপরই দুই মন্ত্রী তাদের বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন দাখিল করেন।

 

গত ৫ মার্চ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে তীর্যক মন্তব্য করেন সরকারের ঐ দুই মন্ত্রী। এ নিয়ে সব মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইমলাম।

 

সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি, এ রায় নিয়ে যে শঙ্কা এখন একটি সংকটে পরিণত হয়েছে। তবে এই সংকট আমাদের সৃষ্ট নয়। সংকট সৃষ্টি করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধান বিচারপতি। এটাই আমাদের দুঃখ।’

 

দুই মন্ত্রীর বক্তব্যকে সংবিধানপরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ৮ মার্চ  আপিল বিভাগ দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে।

 

ওই দিন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে অশুভ ও অবমাননাকর বক্তব্যে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা স্তম্ভিত, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments