রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজাতীয়রাজধানীতে বাজারের ব্যাগে গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, পিস্তল

রাজধানীতে বাজারের ব্যাগে গ্রেনেড তৈরির উপকরণ, পিস্তল

গতকাল বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা একটি বাস থেকে নেমে রাজধানীর দারুস সালাম রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন আট-দশজন যাত্রী। তাদের দুজনের হাতে ছিল দুইটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ। পুলিশ সন্দেহ করে তাদের দিকে এগিয়ে গেলে তারা দৌড়াতে শুরু করেন।

 

তখন পুলিশ তাদের ধাওয়া করে  তাদের মধ্য থেকে চারজনকে দারুস সালাম রোডের অ্যাপারেলস এক্সপোর্ট লিমিটেডের সামনে থেকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অ্যাপারেলস এক্সপোর্ট লিমিটেডের এক নিরাপত্তা রক্ষী সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটক চারজনের কাছ থেকে বাজারের ব্যাগে সাদা রঙের কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ৭৮৭টি ডেটোনেটর (হাতে গ্রেনেড তৈরির মূল উপকরণ) এবং অন্য ব্যাগে কমলা রঙের কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ম্যাগাজিনসহ একটি নাইন এমএম পিস্তল পাওয়া যায়।

 

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) সদস্যরা আবু তাহের (৩৭), মিজানুর রহমান (৩৪), সেলিম মিয়া (৪৫) ও তৌফিকুল ইসলাম ওরফে ডা. তৈফিক (৩২) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের কাছ থেকে গ্রেনেড তৈরির উপকরণ ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে।

 

সিটি ইউনিট দাবি করেছে, গ্রেপ্তার চারজন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তারাই গুলশান হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড তৈরির উপকরণ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।

 

সিটি সূত্র জানিয়েছে, জেএমবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও সামরিক কমান্ডার ছোট মিজান ওরফে তারার নির্দেশে জেএমবির কয়েকজন সদস্য নাশকতার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালাম এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল সিটি ইউনিটের সদস্যরা।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে, থ্রিমা ও কিক্‌স নামের অনলাইন ভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার জেএমবির সক্রিয় সদস্য বড় মিজান, রবিউল জেল্টু ও লাল্টুর মাধ্যমে তারা ডেটোনেটর ও অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। ঢাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা এর আগেও বৈঠক করেছেন বলে সিটি সূত্র জানিয়েছে।

 

ডিএমপির অনলাইন সংবাদমাধ্যমে গ্রেপ্তার চারজন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চারজন জানিয়েছেন- তাদের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ছোট মিজান ওরফে তারা গুলশান হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড তৈরির কাঁচামাল ও পিস্তলসহ অন্যান্য অস্ত্র সংগ্রহ করে। পরে ছোট মিজান অস্ত্র ও গ্রেনেড তৈরির কাঁচামালগুলো গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পৌঁছে দেয়।

 

এর আগে বিভিন্ন সময় সিটি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পথ দিয়েই গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এসেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments