মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
মঙ্গলবার, অক্টোবর 26, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাঅবশেষে স্বামীর অধিকার ফিরে পেল লাকসামের দরিদ্র হালিমা

অবশেষে স্বামীর অধিকার ফিরে পেল লাকসামের দরিদ্র হালিমা

অবশেষে স্বামীর অধিকার ফিরে পেল লাকসামের শ্রীয়াং গ্রামের এক দরিদ্র কন্যা হালিমা (১৮)। গত ৩ মাস যাবত বিচারের বানী যেন নিরবে-নিস্তদ্ধে কেঁদেছে। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ ইউপি’র শ্রীয়াং গ্রামের ওই তরুণী স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীদের তৎপরতায় মুচলেকার মাধ্যমে সামাজিকভাবে গতকাল শুক্রবার ফিরে পেল স্বামীর অধিকার। দরিদ্র হালিমা ওই গ্রামের দক্ষিনপাড়া ফকিরবাড়ীর মৃত সোনা মিয়ার কন্যা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আবদুল খালেকের (২৮) সাথে হালিমার স্থানীয় শ্রীয়াং হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘ আড়াই বছর জুড়ে প্রেমিক খালেক- প্রেমিকা হালিমার হৃদয়ের আদান-প্রদান চলে। দিনদিন শক্ত হতে থাকে তাদের ভালোবাসার বন্ধন। প্রায় সময় উভয়ে অভিভাবকদের ফাঁকি দিয়ে তারা বেড়াতে যেতো লাকসাম পৌরশহরসহ বিভিন্নস্থানে। এক সময়ে শুরু শারীরিক কথন। এতে অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে হালিমা। প্রেমিক খালেক বিভিন্ন প্রলোভনে নিজের পাপমোচনের জন্য ঘটায় অবৈধ গর্ভপাত। সময়ের ব্যবধানে এ ঘটনাটি জেনে যায় গ্রাম ও পাড়ার মানুষ। সর্বশেষ গত ১৪ই জুন রাতে হালিমাদের বাড়ীর পাশের বাগানে উভয়ে অনৈতিক কাজে থাকাবস্থায় স্থানীয় লোকজন আটক করে প্রেমিকজুটি খালেক ও হালিমাকে। এলাকাবাসীর উত্তেজনা প্রশমন ও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাৎক্ষনিক বিয়ের আশ্বাসে গ্রামের শালিসদারগণ প্রেমিক খালেকের কাছ থেকে সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেন। প্রায় ৩ মাস যাবত এ নিয়ে চলে উভয়পক্ষের রশি টানাটানি।

 

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দীর্ঘ ৩ মাস পার হলেও এলাকার কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের রশি টানাটানিতে বিষয়টি এলাকায় নোংরা রাজনীতির গুটিতে রূপ নিয়েছে। প্রেম ও বিয়ের নামে প্রতারনা, যৌন উত্তেজক, ধর্ষন, অবৈধ গর্ভপাতে পরপর ২টি সন্তান নষ্টসহ ওই দরিদ্র স্কুল ছাত্রীর শিক্ষাজীবন ধ্বংসসহ নানা বিষয় লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অপরদিকে ভন্ড প্রেমিকের প্রতারনার শিকার দরিদ্র স্কুল ছাত্রী হালিমার পাশে স্থানীয় সাংবাদিকরা এগিয়ে আসলে স্থাণীয় কতিপয় সমাজ বান্ধব নেতা ও প্রেমিক খালেকের পরিবারের শুরু হয় তোড়জোড়। ঘটনা মিমাংসায় গড়াতে থাকে নানাহ গতিপথ। অবশেষে গত ২৭ অক্টোবর লাকসাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ আব্দুল আলিম দিদারের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে প্রেমিক-প্রেমিকার সামাজিক ভাবে গতকাল শুক্রবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাড়ায় হালিমার বয়স প্রমানে। ছেলে-মেয়ে বয়স প্রমানে জন্ম নিবন্ধন ও জেএসসি পরীক্ষা সনদে জন্ম তারিখ নিয়ে বির্তক থাকলেও জন্ম নিবন্ধনকেই প্রাধান্য দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ঠিক রেখে ওই গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার আলী নোয়াজকে বিয়ের পড়ানোর অনুমোতি দেন।

 
এ ব্যাপারে দরিদ্র স্কুল ছাত্রী হালিমার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানায়, অতীত নিয়ে আর নয়। গতকাল শুক্রবার সামাজিক ভাবে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আপনারা দোয়া করুন যাতে আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। তবে প্রেমিক আব্দুল খালেকের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আলী নোয়াজ জানায়, গত ৩ মাস ধরে এ ঘটনাটি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্থাণীয় মিডিয়াকর্মীরা ও কাউন্সিলর দিদার ভাই এগিয়ে না আসলে দরিদ্র মেয়েটা বিচার পেতো না। সর্বশেষ ইউএনও স্যার হস্তক্ষেপ করে আইনগত বিষয়টি বয়স প্রমানে নিশ্চিত করে বিয়ের কাজটা সম্পূর্ন হয়েছে। আমরা সবাই আল্লাহ’র কাছে দোয়া করছি তাদের দাম্পত্য জীবন যাতে সুখের হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments