বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 21, 2021
spot_img
Homeরাজনীতিইসি পুনর্গঠনে প্রস্তাব নিয়ে আসছেন খালেদা

ইসি পুনর্গঠনে প্রস্তাব নিয়ে আসছেন খালেদা

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে দিকনির্দেশনামূলক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য, দল ও জোটের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি কিছুদিন ধরে প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন।

 

প্রস্তাবের খসড়া নিয়ে ইতিমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টরা চেয়ারপারসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। রবিবার রাতে এ নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ইসি পুনর্গঠনের প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

 

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৮ই নভেম্বর শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন দেশবাসীর উদ্দেশে এ প্রস্তাবটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরবেন। বিএনপি কেমন নির্বাচন কমিশন চায়, এই রূপরেখার মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে।

 

সোমবার দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত খবরটি আরটিএনএন এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

 

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতারা জানান, রূপরেখার একটি কপি প্রেসিডেন্টের কাছেও দেয়া হবে। প্রস্তাবে কি কি বিষয় থাকবে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে বিএনপির প্রস্তাব প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিএনপি কিছু পরামর্শ দেবে। সার্চ কমিটিতে অবসর নেয়ার পর ‘লাভজনক কোনো পদে ছিলেন না’ আপিল বিভাগের এমন বিচারপতি, সরকারের লাভজনক কোনো পদে ছিলেন না প্রশাসনের এমন আমলা ও সুশীল সমাজের বিতর্কিত নন এমন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিতে পারে বিএনপি।

 

অন্যদিকে ইসি পুনর্গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একটি পদের বিপরীতে সার্চ কমিটি কর্তৃক দু’জনকে বাছাই এবং চার নির্বাচন কমিশনার পদে আটজনের নাম প্রস্তাব করার পরামর্শ দিতে পারে বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে ঐকমত্য বা সমঝোতার বিষয়েই জোর দেবে দলটি। যাতে করে সমঝোতা বা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত নাম থেকে কমিশন পুনর্গঠন করা যায়। এ ছাড়া প্রস্তাব দেয়া হবে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার ব্যাপারেও। ভোটগ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত কিভাবে নির্বিঘ্নে করা যায় তার একটি রূপরেখাও থাকবে প্রস্তাবে।

 

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, মূলত দুটি ক্যাটাগরি করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে, কোন কোন পেশার লোকজনকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে, দ্বিতীয়ত, কোন কোন পেশার লোকজনকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকবে না প্রস্তাবে। তবে কোন কোন পেশাকে নেতিবাচক ক্যাটাগরিতে রাখা হবে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি।

 

সূত্র জানায়, সর্বোপরি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারবে এমন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয়া হবে। কারণ কয়েকজন ভালো মানুষ দিয়েই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্বাচন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, সহকারী পোলিং অফিসারের প্রয়োজন। নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ ও তাদের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা এবং সক্ষমতা দরকার।

 

সূত্র আরো জানায়, এখানে বিএনপির পছন্দ-অপছন্দটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে বিএনপি যেমন এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার মানসিকতা দেখাবে একইভাবে আওয়ামী লীগের তরফেও তাদের পছন্দের লোকের ব্যাপারে ছাড় দেয়ার বিষয় রয়েছে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- নির্বাচন কমিশনাররা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, যোগ্য, সৎ, নির্লোভ, সাহসী কিনা। যারা সংবিধান ও প্রচলিত আইন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। এ ধরনের কিছু লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়া দরকার।

 

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এখন কোনো আইন না থাকলেও সংবিধানে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কিছুদিন ধরে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনে সবার সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও ইসি পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো আগ্রহ এখন পর্যন্ত দেখায়নি সরকার। উল্টো বিভিন্ন সভা-সেমিনার, সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে অনাগ্রহ।

 

২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের নিজ উদ্যোগে ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠন করেছিলেন। সেবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অটল বিএনপি সেবার নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

 

ইসি পুনর্গঠনে বিএনপির মতামতও আমলে নেয়া হয়নি। এবার বিএনপির কোনো প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় ধরে নিয়েও একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত নন কিন্তু নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ এমন তিনজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেন।

 

সূত্র জানায়, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে একদিকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে সরকারের মনোভাব বোঝা হবে। যাতে নির্বাচনমুখী রাজনীতি বা আন্দোলনমুখী রাজনীতিতে বিএনপি তাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পারে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, বিএনপির প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম একটি আশাবাদও। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সম্মেলনের শেষদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা আমি চাই না’।

 

এ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিএনপি দেখতে চায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসলে তার মনের কথা কি-না। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও একটি প্রস্তাব দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। কমিশন নিয়ে প্রস্তাবের পরবর্তী সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সেটা উত্থাপন করা হবে। সরকারের মনোভাব ইতিবাচক হলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কমিশন গঠনে বিএনপি খোলা মনে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামোতে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকেও মেনে নিতে পারে বিএনপি।

 

১১ই নভেম্বর শুক্রবার আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রস্তাবের বিষয়টি পরিষ্কার করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। কমিশনের সঙ্গে যুক্ত যারা তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।

 

এটা কিভাবে সম্ভব, কোন প্রক্রিয়া করা যায়- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আমাদের নেত্রী জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন। দলের পক্ষ থেকে ২০ দলের নেতারা সবাই মিলে প্রস্তাবটি দেবেন। অন্যদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির যে অবস্থান তা কম সময়ের মধ্যে জানতে পারবেন। বাংলাদেশে জনগণের ভোট নিশ্চিত করার জন্য, একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ও সংসদ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে অতিসত্তর দেয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments