মঙ্গলবার, জানুয়ারী 18, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 18, 2022
মঙ্গলবার, জানুয়ারী 18, 2022
spot_img
Homeধর্মআল কোরআন এবং হাদিসের আলোকে মাদকের অবস্থান : মো:ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

আল কোরআন এবং হাদিসের আলোকে মাদকের অবস্থান : মো:ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া

মদের পরিচয়: মদের শাব্দিক অর্থ হলো ঢেকে ফেলা, গোপন করা,আছাদন করা। ইমাম আবু হানিফা রাহঃ বলেন-আঙ্গুরের রস হতে তৈরি তীব্র সুরাকে মদ রলে। মোট কথা , যেপানীয় পান করলেবিবেক শক্তি হারিয়ে ফেলে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা থেকে পশুত্বের স্তরে নেমে যায়, ভাল মন্দ পার্থক্য করার মত কোন জ্ঞান থাকে না, তাকে মদ বলে।

মদ পান কারীর পরিনতি: মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা আল মায়িদায় বলেছেন: হে ইমানদারগন, মদ,জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য গননা শয়তানের নোংরা কাজ। এ গুলি পরিহার করো। তাহলে তোমরা সাফল্য লাভ করবে।শয়তান শুধু তোমাদের মধ্যে ক্ষমতা ও বিদ্বেষ সংঘটিত করতে চায়, মদ ও জুয়ার মধ্য দিয়ে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্বরন ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়। তোমরা কি তাহলে বিরত থাকবে না ? ( সূরা মায়িদাÑ ৯০,৯১) এ আয়াত দ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাবে প্রমানিত, আল্লাহ এ আয়াতে মদ পান করতে নিষেধ করে তা থেকে সাবধান করেছেন। রাসুল (সা:) বলেছেনঃ- তোমরা মদ পরিত্যাগ কর। কারন এটা সকল ঘৃন্য কাজের উৎস্য (আহাম্মদ)। অতএব যে ব্যাক্তি মদ পরিত্যাগ করে না, সে আল্লাহ ও রাসূলের নাফর মানী করে এবং এ জন্য সে আযাবের যোগ্য। রাসুল (সা:) এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বলেন, রাসুল (সা:) বলেছেন, যে ব্যাক্তি মাদক দ্রব্য সেবন করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামীদের ঘাম ও মলমূত্র পান করাবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।(মুসলিম, নাসায়ী)। রাসুল (সা:) আরো বলেছেন:- মদ পানকারীর কোন সৎ কাজই আল্লাহ কবুল করে না। আর মদপানের কারনে মাতাল হয়ে যাওয়া ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল হবে না। সে যদি তওবা করে আবার মদ পান করে, তাহলে তার জন্য জাহান্নামের গলিত তামা তার খাদ্য হবে। (বুখারী শরীফ) রাসুল (সা:) এরশাদ করেছেন মদের ক্রেতা, বিক্রেতা, উৎপাদনকারী, পরিবহনকারী, সংগ্রহকারী, সরবরাহকারী ও মদের বিক্রয়লব্দ অর্থ ভোগকারী সকলের উপরই লানত করা হয়েছে।(আবু দাউত, আহমদ)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আ’স (রা:) বলেছেন: মদ পানকারী রোগাক্রান্ত তাদেরকে দেখতে যাবে না।

ইসলামে মদের বিধানঃ- মদ্যপান সামাজিক অনাচার ও অপরাধের মধ্যে অন্যতম। মধ্যপায়ী ব্যক্তি সমাজ জীবনে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীন তায় পশু জীবন হতে ও অধ:পতনের নীচে নেমে যায়। ফলে সমাজে পারস্পরিক কলহ বিবাদ, মারামারি ও হত্যা পর্যন্ত সংঘঠিত হয়ে থাকে। তাই ইসলাম মদপান এবং ক্রয় বিক্রয় সম্পুর্ন হারাম ঘোষনা করেছেন। মদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত উলামা ও ইমামদের ঐক্যমত রয়েছে। তা যে কোন নামে পান করা হোক না কেন। যে ব্যাক্তি এটাকে হালাল মনে করে পান করবে, সে সাথে সাথে কাফের হয়ে যাবে। আর যদি হারাম মনে করে পান করে সে কবীরা গুনাহের অধিকারী হবে, এবং শাস্তির উপযুক্ত হবে। এর জন্য তার খালেছ তওবা করতে হবে।

মদ ক্রয়-বিক্রয় হারামঃ- ইসলামের দৃষ্টিতে যে বস্ত খাওয়া বা পান করা হারাম, ইসলামী শরীয়তে সেটা ক্রয়-বিক্রয় করাও হারাম করেছেন। সুতরাং হারাম যিনিষের ব্যাবসা করা কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। কেননা রাসূল (সা:) বলেছেন- নিশ্চয় যাহা পান করা হারাম তা ক্রয়-বিক্রয় করা ও হারাম। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাইদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা:) কে মদিনায় ভাষন দিতে শুনেছি। তিনি উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বলেন, হে জনমন্ডলী, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিমুখতা প্রদর্শন করেছেন। হয়ত বা এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা অছিরেই কোন সিদ্ধান্তমূলক অবতীর্ন করবেন। সুতরাং তোমাদের কারো নিকট যদি মাদকদ্রব্য থাকে, সে যেন তা বিক্রি না করে এবং এর দ্বারা কোন ফায়দা লাভ করা যাবেনা। সাহাবী হযরত আবু সাইদ খুদরী (রা:) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মদ হারাম করে দিয়েছেন। হারাম সংক্রান্ত আয়াতটি হলো, ইন্নামান খামরু ওয়াল মাইছীরু ওয়াল আলছারু ওয়াল আজলামু রিজছুন মিন আমালিশ শাইতানি পাজতানিবুলু লা আল্লানুম তুফলিহুন।( সূরা মায়িদাÑ ৯০)।
ক্স সুতরাং এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর যারা শুনেছে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম তাদের সংরক্ষিত মাদক দ্রব্য গুলো মদিনার রাস্তায় এনে ঢেলে দিলেন, আর কেউ মদ পান করে নি। অবশেষে বুঝা যায় যে, মদ মানুষকে মাতাল করে হিং¯্র বানিয়ে দেয়। তাই মুসলিম উম্মাহার সার্বিক কল্যানের দিকে লক্ষ্য রেখে
মহান আল্লাহ তায়ালা মদ চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন।

 

সংগ্রহকারী,
মোঃ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, এসেসর,কুসিক

প্রধান সমন্বয়কারী,উত্তর রামপুর মাদক প্রতিরোধ কমিটি,২২নং ওয়ার্ড মহানগর, কুমিল্লা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments