শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 29, 2021
spot_img
Homeকুমিল্লাদর্শনার্থীদের সামনে আর আসবে না কুমিল্লার ‘যুবরাজ’

দর্শনার্থীদের সামনে আর আসবে না কুমিল্লার ‘যুবরাজ’

এক সময় দর্শনার্থীরা ‘যুবরাজ’-এর গর্জনে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতেন । কিন্তু এখন আর সেই তর্জন-গর্জন নেই সেই যুবরাজের। ‘যুবরাজ’ নামটাই যেন এখন তার জন্য একটা বিরাট প্রহসন। আগের হুংকার স্তিমিত হওয়ায় এখন তাকে একটা বিড়ালও ভয় পায় না! চিকিৎসকরা জানান, আগের সেই রুচিও নেই যুবরাজের। তাই খাবার হিসেবে এখন আর তার সামনে ছয় কেজি গরুর মাংস দেওয়া হয় না।

এর পরিবর্তে দেওয়া হয় ছোটখাটো মুরগি। কিন্তু সেটাও গিলতে পারে না সে। অধিকাংশ সময় আধমরার মতো শুয়ে থাকাই এখন তার বেঁচে থাকা। অসুখে ভোগে এই হাল হয়েছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানার একটিমাত্র সিংহ যুবরাজের।

চলার শক্তি হারিয়ে ফেললেও সিংহটিকে দেখার জন্যই শত শত মানুষ কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় যেতেন। কিন্তু এখন থেকে আর সিংহটিকে দেখা যাবে না। কারণ রুগ্ন যুবরাজকে দর্শনার্থীদের সামনে আর না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১ নভেম্বর) বিকালে যুবরাজকে দেখতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় যায় পশু চিকিৎসকদের একটি দল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ দলের চিকিৎসকরা যুবরাজকে ইনজেকশন দেন। সবশেষে তারা জানান, যুবরাজকে আর দর্শনার্থীর সামনে আনা হবে না।

ঢাকা চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজমুল হাসান বলেন, ‘বৃদ্ধ সিংহটি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছে। যতদিন বেঁচে থাকে, আমরা ততদিন চিকিৎসা ও খাবার দিয়ে যাব। তবে আর তাকে দর্শনার্থীদের সামনে আনা হবে না।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মাকসুদুল হাসান প্রমুখ।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যুবরাজ মুমূর্ষু অবস্থার মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসক এনে তার চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুবরাজের বয়স হয়েছে। এখন সে তার বাড়তি জীবনকাল অতিবাহিত করছে। তাকে এখন আড়ালে রেখে চিকিৎসা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিংহটির খাবারের কোনও অভাব নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আবদুল মান্নান বলেন, ‘রুগ্ন সিংহের চিকিৎসার জন্য ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহা-পরিচালকের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল।

আমরা সিংহের খাবার ও চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রেখেছি। আগে সে দৈনিক ছয় কেজি মাংস খেতে পারতো। এখন সে পরিমাণ খেতে পারে না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা চিড়িয়াখানা এখন অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো হয়ে আছে। এর বেশিরভাগ খাঁচা শূন্য পড়ে রয়েছে। এখানে সব মিলিয়ে আটটি বানর, তিনটি বনমোরগ, তিনটি হরিণ রয়েছে। আর আছে এ চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ একমাত্র সিংহ যুবরাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরি মৌজায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে ১০ দশমিক ১৫ একর ভূমিতে গড়ে উঠে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রুগ্ন যুবরাজকে নিয়ে ‘চিড়িয়াখানার রুগ্ন সিংহের ছবি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়’ শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিন বিকালে সিংহটিকে দেখতে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments