সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
সোমবার, অক্টোবর 18, 2021
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকরোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং এটাই সংকটের সর্বোত্তম সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী সাইমন হেনশ

শনিবার রাজধানীর গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাইমন হেনশ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নেপিদোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাখাইনের এই সমস্যা একটি জটিল ও মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দুই মাসে ছয় লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশ এই মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে আমরা এখানে এসেছি। সামগ্রিকভাবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাখাইনে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে দেরির জন্য মিয়ানমার বাংলাদেশকে দায়ী করার মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনে সিমন হেনশ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দায়-দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের। প্রক্রিয়া শুরুর দায় তাদের। মানুষগুলো যেন স্বেচ্ছায় ফিরতে পারে সেজন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত এলাকা দেওয়ার বিষয়টি তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিথার নওয়ার্ট ও ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি একইভাবে মিয়ানমার সফর করবে। দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে তারা রাখাইনে শর্তহীনভাবে ত্রাণ সংস্থা ও সংবাদকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি চাইবে। এছাড়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ও নিরাপদে রাখাইনে প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশি চৌকিতে অজ্ঞাত বিদ্রোহীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হন। এ হামলার জন্য মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দায়ী করে তাদের ওপর নির্বিচারে দমন-পীড়ন শুরু করে। যা এক পর্যায়ে ‘গণহত্যায়’ রূপ নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে শিকার হয়ে এবং নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত দুই মাসে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সেখান থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে সীমান্ত মৈত্রী পোস্ট স্থাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ওই স্মারকে সই করেন।

১৯৯২ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যে প্রত্যাবাসন চুক্তি করেছিল, তার আওতায় দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে সে সময় ফিরিয়ে নিয়েছিল তারা। চুক্তি নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও ২৪১৫ জন শরণার্থীকে ‘মিয়ানমার থেকে আসা’ বলে চিহ্নিত করা হলেও তাদের আর তারা ফিরিয়ে নেয়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments